শনিবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৪ || ২৯ চৈত্র ১৪৩০

প্রকাশিত: ১৭:২০, ৪ মার্চ ২০২৪

সাহাবিদের সম্পর্কে আল্লাহ যা বলেছেন

সাহাবিদের সম্পর্কে আল্লাহ যা বলেছেন
সংগৃহীত

সাহাবি অর্থ সঙ্গী, বন্ধু, অনুসারী, সহচর ইত্যাদি। সাহাবি একবচন। বহুবচনে সাহাবা। যারা ঈমানের সঙ্গে নবী (স.)-এর সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং ঈমানের উপর অটল থেকে মৃত্যু বরণ করেছেন তাদেরকে সাহাবি বলা হয়। সাহাবিরা এই উম্মতের শ্রেষ্ঠতম মুসলমান। তারা নিষ্পাপ নন, তবে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ ক্ষমাপ্রাপ্ত।

আল্লাহর বিশেষ ক্ষমা ঘোষণা
সাহাবায়ে কেরামের জন্য আল্লাহর ক্ষমার ঘোষণা আছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- لَقَدۡ تَّابَ اللّٰهُ عَلَی النَّبِیِّ وَ الۡمُهٰجِرِیۡنَ وَ الۡاَنۡصَارِ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡهُ فِیۡ سَاعَۃِ الۡعُسۡرَۃِ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا کَادَ یَزِیۡغُ قُلُوۡبُ فَرِیۡقٍ مِّنۡهُمۡ ثُمَّ تَابَ عَلَیۡهِمۡ ؕ اِنَّهٗ بِهِمۡ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ‘আল্লাহ অনুগ্রহপরায়ণ হয়েছেন (তাওবা কবুল করেছেন) নবীর প্রতি এবং মুহাজির ও আনসারদের প্রতি, যারা সংকটকালে তাকে অনুসরণ করেছিল। এমনকি তাদের মধ্যে কিছু লোকের অন্তর বেঁকে যাওয়ার উপক্রম হওয়ার পরও আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তিনি তাদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, বড়ই দয়ালু।’ (সুরা তাওবা: ১১৭)

আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
সাহাবায়ে কেরামদের প্রতি রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টির ঘোষণা এবং জান্নাতের প্রতিশ্রুতি। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন- وَ السّٰبِقُوۡنَ الۡاَوَّلُوۡنَ مِنَ الۡمُهٰجِرِیۡنَ وَ الۡاَنۡصَارِ وَ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡهُمۡ بِاِحۡسَانٍ ۙ رَّضِیَ اللّٰهُ عَنۡهُمۡ وَ رَضُوۡا عَنۡهُ وَ اَعَدَّ لَهُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ تَحۡتَهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَاۤ اَبَدًا ؕ ذٰلِکَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ‘আর যেসব মুহাজির ও আনসার (ঈমান আনয়নে) প্রথম অগ্রগামী এবং যেসব লোক একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে তাদের অনুগামী, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। আর আল্লাহ তাদের জন্য এমন জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যার তলদেশ দিয়ে বহু নদী বইতে থাকবে, যার মধ্যে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর এটা মহাসাফল্য।’ (সুরা তাওবা: ১০০)

ঈমানের মানদণ্ড
সাহাবিরা হলেন সাধারণ মুসলমানের জন্য ঈমানের মানদণ্ড। কোনো মুমিনের ঈমান তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন তা সাহাবায়ে কেরামের ঈমানের মতো হবে। পবিত্র কোরআনে এসেছে- وَ اِذَا قِیۡلَ لَهُمۡ اٰمِنُوۡا کَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ کَمَاۤ اٰمَنَ السُّفَهَآءُ ؕ اَلَاۤ اِنَّهُمۡ هُمُ السُّفَهَآءُ وَ لٰکِنۡ لَّا یَعۡلَمُوۡنَ ‘আর যখন তাদের (মুনাফিকদের) বলা হয়, ঈমান আনো যেমন লোকেরা (সাহাবায়ে কেরাম) ঈমান এনেছে, তারা বলে, আমরা কি ঈমান আনব যেমন নির্বোধরা ঈমান এনেছে? জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তারাই নির্বোধ; কিন্তু তারা জানে না।’ (সুরা বাকারা: ১৩)

নবীজির আন্তরিক সেবক
সবরকম কষ্ট মাথা পেতে নিয়ে আল্লাহর রাসুলকে সাহায্য করেছেন সাহাবিরা। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন। সে কথার স্বীকৃতি ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ঘোষণা এসেছে পবিত্র কোরআনে। ইরশাদ হয়েছে- لِلۡفُقَرَآءِ الۡمُهٰجِرِیۡنَ الَّذِیۡنَ اُخۡرِجُوۡا مِنۡ دِیَارِهِمۡ وَ اَمۡوَالِهِمۡ یَبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضۡوَانًا وَّ یَنۡصُرُوۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ ؕ اُولٰٓئِکَ هُمُ الصّٰدِقُوۡنَ ‘এই সম্পদ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে উত্খাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী।’ (সুরা হাশর: ৮)

 

আরও ইরশাদ হয়েছে-  لَقَدۡ رَضِیَ اللّٰهُ عَنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اِذۡ یُبَایِعُوۡنَکَ تَحۡتَ الشَّجَرَۃِ فَعَلِمَ مَا فِیۡ قُلُوۡبِهِمۡ فَاَنۡزَلَ السَّکِیۡنَۃَ عَلَیۡهِمۡ وَ اَثَابَهُمۡ فَتۡحًا قَرِیۡبًا ‘মুমিনদের (সাহাবাদের) প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা (হুদাইবিয়ায়) গাছের তলে তোমার কাছে বায়াত নিল। আল্লাহ জানতেন তাদের অন্তরে কী আছে, এ জন্য তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন আর পুরস্কার হিসেবে তাদের দিলেন আসন্ন বিজয়।’ (সুরা ফাতহ: ১৮)

আগের আসমানি কিতাবে সাহাবিদের প্রসঙ্গ
আল্লাহ তাআলা আগের আসমানি কিতাবেও সাহাবিদের প্রশংসা করেছেন এবং প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন। বিষয়টি পবিত্র কোরআনে এভাবে এসেছে- مُحَمَّدٌ رَّسُوۡلُ اللّٰهِ ؕ وَ الَّذِیۡنَ مَعَهٗۤ اَشِدَّآءُ عَلَی الۡکُفَّارِ رُحَمَآءُ بَیۡنَهُمۡ تَرٰىهُمۡ رُکَّعًا سُجَّدًا یَّبۡتَغُوۡنَ فَضۡلًا مِّنَ اللّٰهِ وَ رِضۡوَانًا ۫ سِیۡمَاهُمۡ فِیۡ وُجُوۡهِهِمۡ مِّنۡ اَثَرِ السُّجُوۡدِ ؕ ذٰلِکَ مَثَلُهُمۡ فِی التَّوۡرٰىۃِ ۚۖۛ وَ مَثَلُهُمۡ فِی الۡاِنۡجِیۡلِ ۚ۟ۛ کَزَرۡعٍ اَخۡرَجَ شَطۡـَٔهٗ فَاٰزَرَهٗ فَاسۡتَغۡلَظَ فَاسۡتَوٰی عَلٰی سُوۡقِهٖ یُعۡجِبُ الزُّرَّاعَ لِیَغِیۡظَ بِهِمُ الۡکُفَّارَ ؕ وَعَدَ اللّٰهُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ مِنۡهُمۡ مَّغۡفِرَۃً وَّ اَجۡرًا عَظِیۡمًا ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং তার সঙ্গে যারা আছে তারা কাফেরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর; পরস্পরের প্রতি সদয়। তুমি তাদের রুকুকারী, সেজদাকারী অবস্থায় দেখতে পাবে। তারা আল্লাহর করুণা ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করছে। তাদের আলামত হচ্ছে, তাদের চেহারায় সেজদার চি‎হ্ন থাকে। এটাই তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত। আর ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যে তার কচি পাতা উদগত করেছে ও শক্ত করেছে, অতঃপর তা পুষ্ট হয়েছে ও স্বীয় কাণ্ডের ওপর মজবুতভাবে দাঁড়িয়েছে, যা চাষিকে আনন্দ দেয়। যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফেরদের ক্রোধান্বিত করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন।’ (সুরা ফাতহ: ২৯)

সাহাবিরা প্রকৃত ঈমানদার
সাহাবিরা প্রকৃত মুমিন। তাঁদের ঈমান প্রশ্নাতীত। ইরশাদ হয়েছে- وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ هَاجَرُوۡا وَ جٰهَدُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ الَّذِیۡنَ اٰوَوۡا وَّ نَصَرُوۡۤا اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ حَقًّا ؕ لَهُمۡ مَّغۡفِرَۃٌ وَّ رِزۡقٌ کَرِیۡمٌ ‘আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিজিক।’ (সুরা আনফাল: ৭৪)

সাহাবিদের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই
সাহাবায়ে কেরামের বিরোধিতা করলে, তাদের পথ ছাড়া অন্যপথে চললে জাহান্নামে যেতে হবে বলে আল্লাহ তাআলা হুঁশিয়ার করেছেন। ইরশাদ হয়েছে- وَ مَنۡ یُّشَاقِقِ الرَّسُوۡلَ مِنۡۢ بَعۡدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُ الۡهُدٰی وَ یَتَّبِعۡ غَیۡرَ سَبِیۡلِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ نُوَلِّهٖ مَا تَوَلّٰی وَ نُصۡلِهٖ جَهَنَّمَ ؕ وَ سَآءَتۡ مَصِیۡرًا ‘যে ব্যক্তি সত্য পথ প্রকাশিত হওয়ার পরও রাসুলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের (সাহাবাদের) পথ বাদ দিয়ে ভিন্ন পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সে পথেই ফিরাব যে পথে সে ফিরে যায়, আর তাকে জাহান্নামে দগ্ধ করব, কত মন্দ না সে আবাস!’ (সুরা নিসা: ১১৫)

সাহাবিদের হেফাজতকারী স্বয়ং আল্লাহ
কেউ সাহাবিদের পথ থেকে বিচ্যুত হলে সাহাবিদের কোনো ক্ষতি নেই, বরং নিজেরই ক্ষতি। কারো বিচ্যুত হওয়ায় কিংবা বিরোধিতায় সাহাবিদের মর্যাদার একটুও কমতি হবে না। ইরশাদ হয়েছে-  یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ حَسۡبُکَ اللّٰهُ وَ مَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ ‘হে নবী! আল্লাহই তোমার আর তোমার অনুসারী ঈমানদারদের (সাহাবাদের) জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আনফাল: ৬৪)

সাহাবিরা মহাসাফল্যের অধিকারী
দুনিয়া ও আখেরাতে সাহাবিদের সফল ঘোষণা করে আল্লাহ বলেন- لٰکِنِ الرَّسُوۡلُ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ جٰهَدُوۡا بِاَمۡوَالِهِمۡ وَ اَنۡفُسِهِمۡ ؕ وَ اُولٰٓئِکَ لَهُمُ الۡخَیۡرٰتُ ۫ وَ اُولٰٓئِکَ هُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ‘...কিন্তু রাসুল ও তার সঙ্গে মুমিনরা তাদের জীবন ও সম্পদ দিয়ে জিহাদ করে, আর সেসব মানুষের জন্য যাবতীয় কল্যাণ। আর তারাই সফল।’ (সুরা তাওবা: ৮৮)

আরও পড়ুন: মুয়াবিয়া (রা.) সম্পর্কে আমাদের আকিদা কী হবে?

কেয়ামতের দিন সাহাবিদের বিশেষ মর্যাদা
সাহাবায়ে কেরাম কেয়ামতের দিন লজ্জিত হবেন না। ইরশাদ হয়েছে- یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ تَوۡبَۃً نَّصُوۡحًا ؕ عَسٰی رَبُّکُمۡ اَنۡ یُّکَفِّرَ عَنۡکُمۡ سَیِّاٰتِکُمۡ وَ یُدۡخِلَکُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ ۙ یَوۡمَ لَا یُخۡزِی اللّٰهُ النَّبِیَّ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَهٗ ۚ نُوۡرُهُمۡ یَسۡعٰی بَیۡنَ اَیۡدِیۡهِمۡ وَ بِاَیۡمَانِهِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَاۤ اَتۡمِمۡ لَنَا نُوۡرَنَا وَ اغۡفِرۡ لَنَا ۚ اِنَّکَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ‘...সেদিন আল্লাহ নবীকে আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল (সাহাবায়ে কেরাম), তাদের লজ্জিত করবেন না। (সেদিনের ভয়াবহ অন্ধকার থেকে মুমিনদের রক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের নূর দৌড়াতে থাকবে তাদের সামনে আর তাদের ডান পাশে। তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের নূর আমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দাও আর আমাদের ক্ষমা করো; তুমি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা তাহরিম: ৮)

সাহাবিদের অন্তর পরিশুদ্ধ
সাহাবাদের অন্তরে কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতা অপছন্দনীয় করে দেওয়া হয়েছে। কোরআনে এসেছে-  وَ اعۡلَمُوۡۤا اَنَّ فِیۡکُمۡ رَسُوۡلَ اللّٰهِ ؕ لَوۡ یُطِیۡعُکُمۡ فِیۡ کَثِیۡرٍ مِّنَ الۡاَمۡرِ لَعَنِتُّمۡ وَ لٰکِنَّ اللّٰهَ حَبَّبَ اِلَیۡکُمُ الۡاِیۡمَانَ وَ زَیَّنَهٗ فِیۡ قُلُوۡبِکُمۡ وَ کَرَّهَ اِلَیۡکُمُ الۡکُفۡرَ وَ الۡفُسُوۡقَ وَ الۡعِصۡیَانَ ؕ اُولٰٓئِکَ هُمُ الرّٰشِدُوۡنَ ‘...কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের কাছে কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতা অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন। এরাই তো সত্য পথপ্রাপ্ত।’ (সুরা হুজরাত: ৭)

সাহাবিরা তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত
তাকওয়া হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির বড় মাধ্যম। আর সাহাবিরা হলেন মুুত্তাকি। তাদের অন্তরে তাকওয়ার বাণী অপরিহার্য করে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-  اِذۡ جَعَلَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فِیۡ قُلُوۡبِهِمُ الۡحَمِیَّۃَ حَمِیَّۃَ الۡجَاهِلِیَّۃِ فَاَنۡزَلَ اللّٰهُ سَکِیۡنَتَهٗ عَلٰی رَسُوۡلِهٖ وَ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَ اَلۡزَمَهُمۡ کَلِمَۃَ التَّقۡوٰی وَ کَانُوۡۤا اَحَقَّ بِهَا وَ اَهۡلَهَا ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا ‘যখন কাফিররা তাদের অন্তরে আত্ম-অহমিকা পোষণ করেছিল—জাহিলি যুগের অহমিকা। তখন আল্লাহ তাঁর রাসুলের ওপর ও মুমিনদের ওপর স্বীয় প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাকওয়ার বাণী তাদের জন্য অপরিহার্য করলেন, আর তারাই ছিল এর সর্বাধিক উপযুক্ত ও এর অধিকারী। আর আল্লাহ হলেন প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা ফাতহ: ২৬)

সাধারণ সাহাবিকেও অবজ্ঞা করা নিষেধ
গরিব কিংবা সাধারণ সাহাবিও আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান। তাদের অবজ্ঞা করা নিষিদ্ধ। ইরশাদ হয়েছে- وَ لَا تَطۡرُدِ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّهُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَ الۡعَشِیِّ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡهَهٗ ؕ مَا عَلَیۡکَ مِنۡ حِسَابِهِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ وَّ مَا مِنۡ حِسَابِکَ عَلَیۡهِمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَتَطۡرُدَهُمۡ فَتَکُوۡنَ مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ‘যারা তাদের রবের সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁকে ডাকে তাদের (গরিব সাহাবাদের) তুমি দূরে সরিয়ে দিয়ো না। তাদের কোনো আমলের জন্য তোমাকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না, আর তোমার কোনো আমলের জন্যও তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হবে না, কাজেই তুমি যদি তাদের (গরিব মুমিনদের) দূরে সরিয়ে দাও, তাহলে তুমি জালিমদের মধ্যে গণ্য হবে।’ (সুরা আনআম: ৫২)

আরও পড়ুন: সালফে সালেহিন কারা, এত মর্যাদা কেন তাঁদের?

সাহাবিদের ব্যক্তিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি প্রকাশ করা পাপ
সাহাবাদের ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে যাওয়া যেকোনো অপছন্দনীয় বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা দুনিয়া ও আখেরাতে শাস্তির কারণ। ইরশাদ হয়েছে- اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحِبُّوۡنَ اَنۡ تَشِیۡعَ الۡفَاحِشَۃُ فِی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَهُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ۙ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ‘যারা পছন্দ করে যে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার বিস্তৃতি ঘটুক তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাতে। আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।’ (সুরা নূর: ১৯)

উল্লিখিত আয়াত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাজিল হয়েছে, যা আয়েশা (রা.) ও কয়েকজন সাহাবি সংশ্লিষ্ট।

সাহাবিদের জন্য দোয়া করা দায়িত্ব
ইরশাদ হয়েছে- وَ الَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَ لَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ ‘যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদের এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদের ক্ষমা করুন এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! আপনি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।’ (সুরা হাশর: ১০)

সাহাবিদের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানানো যাবে না
নবী যুগের পর সাহাবাদের কারো কারো কোনো কোনো ঘটনা, যা মানবরচিত ইতিহাস আশ্রিত, তা আলোচনা ও সমালোচনার বিষয়বস্তু বানানো উচিত হয়। সেসব ঘটনার বিষয়ে মুমিনের দৃষ্টিভঙ্গি এমন: تِلۡکَ اُمَّۃٌ قَدۡ خَلَتۡ ۚ لَهَا مَا کَسَبَتۡ وَ لَکُمۡ مَّا کَسَبۡتُمۡ ۚ وَ لَا تُسۡـَٔلُوۡنَ عَمَّا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ‘তারা এমন এক একটি দল (উম্মত), যারা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্যই। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে না।’ (সুরা বাকারা: ১৩৪)

 

সূত্র: ঢাকা মেইল

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

সর্বশেষ

শিরোনাম

আয়ারল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনার অভিনন্দনসুইজারল্যান্ডে স্কলারশিপ পাওয়ার উপায় কিঈদের দিন ৩ হাসপাতাল পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীরঈদের জামাতে নামাজরত অবস্থায় ভাইয়ের মৃত্যু, খবর শুনে মারা গেলেন বোনওসদরঘাটে শেষ বিল্লালের পুরো পরিবারবৈসাবি উৎসবের আমেজে ভাসছে ৩ পার্বত্য জেলাব্যাংক ডাকাতি থেকে বাঁচতে জয়পুরহাটে কড়া নিরাপত্তাএলাকায় মসজিদ ছিল না, জমি কিনে মসজিদ বানালেন সবজি বিক্রেতাবায়তুল মোকাররমে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢলআজ ঈদ, মুসলমানদের ঘরে আনন্দের বন্যাভারতে পাচারের সময় কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ উদ্ধারজাহাজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন জিম্মি নাবিকরা