• রোববার   ১৭ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ২ ১৪২৮

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

চ্যাটবটে আরও উন্নত ফিচার যুক্ত করলো রিভ চ্যাট

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১  

দেশ পেতে যাচ্ছে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল। ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সি-মি-উই-৬ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে  কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইটেনেন্স এগ্রিমেন্ট ও কনসোর্টিয়ামের সরবরাহকারীদের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে। আর এর মাধ্যমে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

এদিকে বেসরকারিভাবেও সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ লক্ষ্যে দু’টি কোম্পানিকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে এ বিষয়ে চুক্তি সই উপলক্ষে ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ যাত্রা ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের মধ্যে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলটি চালু হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, ‘আগামী দিনে ডিজিটাল সংযুক্তির বর্ধিত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে সি-মি-ইউ-৬ নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনে অভাবনীয় অবদান রাখবে।’ 

বিএসসিসিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং সি-মি-ইউ-৬ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কামাল আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সাবমেরিন ক্যাবলকে দেশের অত্যন্ত অপরিহার্য টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘বিনা মাশুলে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তৎকালীন সরকার বাংলাদেশকে ১৪ বছর তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়া থেকে পিছিয়ে রাখে।’

তিনি জানান, সাব সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের তিনটি প্রস্তাবকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে একনেক সভায় তা অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা মহামারির কারণে কনসোর্টিয়াম  সরবরাহকারী নির্বাচনে বেশ বিলম্ব হয়। ফলে  ২০২০ সালের ডিসেম্বরের  মধ্যে কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবিত  কার্যাবলি চালু করার পরিকল্পনা থাকলেও তা পিছিয়ে ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে নির্ধারণ করা হয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। কনসোর্টিয়ামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিজ নিজ দেশ থেকে অনুরূপ চুক্তিতে সই করে কনসোর্টিয়ামের অস্থায়ী সদর দফতর সিঙ্গাপুরে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঠাবে বলে জানানো হয়। 

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের প্রথম দিকে দেশে প্রথম সাবমেরিন  ক্যাবল কমিশনিং করা হয়। ২০২৪ সাল নাগাদ দেশে ৬ হাজার জিবিপিএস’র (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) বেশি আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে। সি-মি-ইউ-৬ সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে দেশে ১২ টেরাবাইট ব্যান্ডউইথ আসবে বলে জানা গেছে।

সি-মি-ইউ-৬ কনসোর্টিয়ামে যোগদানকারী ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—সিংটেল সিঙ্গাপুর, বিএসসিসিএল বাংলাদেশ, টেলিকম মালয়েশিয়া, এসএলটি শ্রীলঙ্কা, ধিরাগু মালদ্বীপ, এনআইটুআই ভারত, টিডব্লিউএ পাকিস্তান, জিবুতি টেলিকম, জিবুতি, মোবিলিংক সৌদি আরব, চায়না মোবাইল ইন্টারন্যাশনাল চায়না, টেলিকম গ্লোবাল লিমিটেড চায়না, ইউনিকম চায়না, মাইক্রোসফট যুক্তরাষ্ট্র, টেলিকম ইজিপ্ট মিসর ও অরেঞ্জ ফ্রান্স।

বেসরকারিভাবে আসছে ২টি সাবমেরিন ক্যাবল

সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ার লাইসেন্স দেবে। জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি লাইসেন্সিং গাইডলাইন হাল নাগাদের কাজ করছে। বেসরকারি খাতের দুটি প্রতিষ্ঠানকে এ লাইসেন্স দেওয়া হতে পারে। লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ক্যাবল লাইন তৈরি, পরিচালনা, সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম মেরামত ও সেবার কাজ করবে।

এ বিষয় ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, প্রাথমিকভাবে আমরা বেসরকারি খাতে দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের লাইসেন্স দেবো।

জাগ্রত জয়পুরহাট
জাগ্রত জয়পুরহাট