শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬ || ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৩৬, ৫ জুন ২০২৬

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান জরুরি

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান জরুরি
সংগৃহীত

মানব সভ্যতার অগ্রগতি আর প্রকৃতির ভারসাম্য আজ এক চরম সংকটের মুখোমুখি। আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যেখানে হিমবাহের গলন, অসময়ের তাপদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বরং প্রতিদিনের রূঢ় বাস্তবতা।

এই প্রেক্ষাপটে পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে বিশ্ববাসীকে এক সুতায় বাঁধতে প্রতি বছর ৫ জুন আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সংক্রান্ত স্টকহোম সম্মেলনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতি বছর এই দিবসটি একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য ও স্বাগতিক দেশের অধীনে উদযাপিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে এটি বিশ্বের বৃহত্তম পরিবেশভিত্তিক গণসচেতনতামূলক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে ১৫০টিরও বেশি দেশের কোটি কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করে। ২০২৬ সালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল বৈশ্বিক অনুষ্ঠানের স্বাগতিক দেশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে আজারবাইজানের বাকু শহর। বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের সমাধান খুঁজতে এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য।’

২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের তৈরি জটিল পরিবেশগত সমস্যার সমাধান কৃত্রিম কোনো উপায়ে নয়, বরং প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম ও নকশার মধ্যেই নিহিত রয়েছে।

মানুষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষুধা প্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত সংকুচিত করছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং দ্রুত শিল্পায়নের কারণে পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত বনাঞ্চলগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অ্যামাজন থেকে শুরু করে আমাদের সুন্দরবন পর্যন্ত সবখানেই মানুষের কুঠারের আঘাত লেগেছে। বনের গাছ কাটার ফলে কেবল কার্বন শোষণের ক্ষমতাই কমছে না, বরং মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

কলকারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য এবং অপরিকল্পিত প্লাস্টিক ব্যবহারের কারণে নদী, নালা ও সমুদ্রের পানি বিষাক্ত হয়ে উঠছে। শহুরে অঞ্চলের কংক্রিটের জঙ্গল সূর্যের তাপ শোষণ করে ধরে রাখছে, যাকে পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব বলা হয়।

এর ফলে শহরের তাপমাত্রা আশেপাশের গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি থাকছে, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে আরও বেশি কার্বন নির্গমনের চক্র তৈরি করছে। আমরা যদি আজ কার্বন নিঃসরণ না কমাই, বন রক্ষা না করি এবং পানির উৎসগুলো দূষণমুক্ত না রাখি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জ্বলন্ত ও বাস-অযোগ্য পৃথিবী রেখে যাব। পরিবেশগত এই বিপর্যয় কেবল প্রকৃতির ক্ষতি করছে না, বরং এটি বিশ্ব অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও ধ্বংস করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা, চরাঞ্চল এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানে তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়। হিমালয়ের বরফ গলা পানি এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তাল রূপের মাঝখানে অবস্থিত এই বদ্বীপ প্রতিনিয়ত বন্যা, নদীভাঙন, খরা এবং লবণাক্ততার শিকার হচ্ছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি উর্বরতা হারাচ্ছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেকর্ড মাত্রার তাপমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা, চরাঞ্চল এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর ‘জলবায়ু কর্মকাণ্ড’ প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

জলবায়ু কর্মকাণ্ড বলতে মূলত এমন সব উদ্যোগকে বোঝায় যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ কমাতে এবং এর প্রভাব মোকাবিলা করতে সহায়তা করে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শক্তি সাশ্রয়, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, বনায়ন, জলাভূমি সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি, সবুজ পরিবহন ব্যবস্থা এবং জলবায়ু অভিযোজনমূলক অবকাঠামো নির্মাণ।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক দেশ বৈদ্যুতিক যানবাহন, সবুজ ভবন এবং কার্বন নিরপেক্ষ উন্নয়ন কৌশল গ্রহণ করছে। এসব উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষাই নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী, জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থার উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে। তবে দ্রুত নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, নদী দূষণ এবং বনভূমি হ্রাসের মতো চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। তাই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ ও জলবায়ুকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের পাশাপাশি প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান আজ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। এর মূল কথা হলো প্রকৃতির নিজস্ব শক্তিকে ব্যবহার করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা। যেমন, কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে বন্যা ঠেকানোর চেয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বা লবণাক্ততাসহিষ্ণু বনাঞ্চল গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকর।

ম্যানগ্রোভ বনের গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে এবং এর ঘন ডালপালা ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগকে প্রাকৃতিকভাবেই কমিয়ে দেয়। একইভাবে, শহরের ভেতরে কংক্রিটের রাজত্ব কমানোর জন্য ‘স্পঞ্জ সিটি’ বা ছাদ-বাগান এবং কৃত্রিম জলাধার তৈরি করা যেতে পারে, যা অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি শোষণ করে জলাবদ্ধতা দূর করবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে পুনরুজ্জীবিত করবে। পাহাড় ও বনাঞ্চলের ক্ষয়রোধে প্রাকৃতিকভাবে গাছ গজাতে দেওয়া এবং স্থানীয় প্রজাতির উদ্ভিদ রোপণ করা কৃত্রিম বনায়নের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই সুফল দেয়।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পরিবেশ সংরক্ষণ কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি আমাদের প্রতিদিনের দায়িত্ব। ‘আমি একা কী করতে পারি?’ এই মানসিকতা পরিহার করে আমাদের ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন করা, বাজারে যাওয়ার সময় পাটের বা কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করা এবং পলিথিনের ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

ঘরে ও কর্মক্ষেত্রে বিদ্যুতের অপচয় কমানো, পানির অপচয় রোধ করা এবং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নাগরিক যদি বছরে অন্তত একটি করে ফলদ বা বনজ গাছের চারা রোপণ করে এবং তার পরিচর্যা করে, তবে তা দেশের সামগ্রিক বনায়নে বিশাল অবদান রাখবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করতে পারে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সবুজ প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পারে এবং স্থানীয় সরকার পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কোটি কোটি মানুষের ছোট ছোট ইতিবাচক পদক্ষেপই একত্রিত হয়ে একটি বিশাল বৈশ্বিক পরিবর্তনে রূপ নেয়।

যেকোনো সামাজিক বা বৈশ্বিক আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র জনমত গড়ে উঠেছে, তার অগ্রভাগে রয়েছে তরুণরা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে এবং তাদের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে হবে।

যেকোনো সামাজিক বা বৈশ্বিক আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র জনমত গড়ে উঠেছে, তার অগ্রভাগে রয়েছে তরুণরা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ শিক্ষার বিস্তার ঘটাতে হবে এবং তাদের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় কেবল আইন থাকলেই চলে না, যদি না সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গুরুত্ব বোধ তৈরি হয়। গণমাধ্যমগুলোর উচিত নিয়মিত পরিবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠান, তথ্যচিত্র এবং প্রতিবেদন প্রচার করা, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও তা মোকাবিলার উপায় সম্পর্কে জানতে পারে। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশবাদী ক্লাবগুলো সমাজকে একটি সবুজ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর মূল বার্তা হলো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আর অপেক্ষার সুযোগ নেই। পৃথিবী ইতিমধ্যেই আমাদের সামনে সতর্কবার্তা পাঠাচ্ছে। তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস তারই প্রতিফলন। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু কর্মকাণ্ডকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

একটি সবুজ, নিরাপদ এবং টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে হলে আজই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নই হতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার সর্বোত্তম পথ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ আমাদের সেই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ এনে দিয়েছে পৃথিবীকে রক্ষা করা মানেই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

অনলাইন জরিপ

শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২৬ || ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম