কালজানি নদীভাঙনে কুড়িগ্রামে ৩ দিনে বিলীন ৮০ বাড়িঘর
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে তিন দিনে প্রায় ৮০টি বাড়িঘর, ফসলি জমি ও অসংখ্য গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা এলাকায় তোফাজ্জল মিয়া (৫৫) বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলিছিলাম। এখন আবার বাড়িঘর ভাঙনের মুখে। এবার বাড়িঘর ভেঙে গেলে কই থাকমো। কোথায় বউ ছাওয়া পাওয়া নিয়ে যামো চিন্তায় পরেছি।’
আমেনা বেগম (৫০) বলেন, ‘বাড়িঘর সব নদীত চলি গেইছে। এখন খোলা আকাশের নিছে আছি। কই যামো কই থকমো খুব বিপদে পরছি।’
একই এলাকার শাহা আলম (৬০) বলেন, ‘দিন-রাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’
কাজিয়ার চর এলাকায় মোজাফ্ফর আলী (৫৪) বলেন, ‘নদী হামার জমি খাইছে এখন ঘরও খাচ্ছে। প্রতি বছর ভাঙনের ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়। সরকারের কাছত স্থায়ী বাঁধ চাই, যাতে বারবার উদ্বাস্তু হতে না হয়।’
শিলখুরি ইউনিয়নের পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ বলেন, উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে এবং ভারতীয় সীমান্তসংলগ্ন। গত তিন দিনে নদীভাঙনে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি বসতভিটা বিলীন হয়েছে। আরও ৫০টির বেশি পরিবার ভাঙনের মুখে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙন পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদী তীরবর্তী মানুষদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে তাই ভাঙন রোধে সরকারের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

.webp)


.webp)








