বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৩৪, ১১ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানের করতে যা প্রয়োজন, সবই করব

প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানের করতে যা প্রয়োজন, সবই করব
সংগৃহীত

প্রাথমিক শিক্ষাকে যুগোপযোগী, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার একটি সমন্বিত ‘স্মার্ট এডুকেশন ইকোসিস্টেম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সেই রূপান্তরের ভিত্তি তৈরিতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

ঢাকা পোস্টকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর কোনো এক বছরের কাজ নয়। কোটি কোটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশাল এই ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে আধুনিকায়ন করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেম গড়ে তুলতে চাই। এজন্য প্রথমে পুরো ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে। আগামী বাজেটে সেই ভিত্তি নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ হচ্ছে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি। এর আওতায় প্রত্যেক শিক্ষককে এমন একটি ট্যাব দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে পাঠদান, মূল্যায়ন, ফলাফল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা যাবে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারেকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল (আইএফপি), ইন্টারনেট সংযোগ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে শিক্ষকরা সরাসরি প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান করতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

শিক্ষকদের জন্য আসছে নতুন নীতিমালা

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের জন্য একটি যুগোপযোগী নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।’ 

তিনি বলেন, ‘নতুন নীতিমালার মূল লক্ষ্য তিনটি— শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি সুস্পষ্ট ক্যারিয়ার কাঠামো তৈরি করা।’

নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি, মূল্যায়ন, পদোন্নতি ও বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের দাবি ১১তম গ্রেডসহ আর্থিক সুবিধার বিষয়গুলোও নীতিমালার আলোচনায় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা বাজেটে এমন জায়গা রাখার চেষ্টা করেছি, যাতে নতুন নীতিমালার কারণে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হলে তা বাস্তবায়ন করা যায়।’

প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে নয় নতুন শিক্ষক

সম্প্রতি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই তারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সুযোগ পাবেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন বা পরীক্ষা থাকা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এটি নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

দেশব্যাপী মিড-ডে মিলের পরিকল্পনা

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে আগামী বছর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য ‘মিড-ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রাথমিক ফলাফল আশাব্যঞ্জক। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলোও ধীরে ধীরে সমাধান করা হচ্ছে।’

মিড-ডে মিলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ দেওয়ার উদ্যোগও পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। পাইলট কার্যক্রমের ফল ইতিবাচক হলে এসব সুবিধা দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহযোগিতা

বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে প্রয়োজনে অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অস্থায়ীভাবে কাজে লাগানোর চিন্তাভাবনাও সরকারের রয়েছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। তবে তিনি বলেন, ‘এটি হবে একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তি সংযোজন নয়, বরং এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন, নাগরিক চেতনা ও জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করবে। 

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমরা পুরো প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের, ক্যারিয়ারমুখী এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার উপযোগী একটি শিক্ষা কাঠামো তৈরি করা।’

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম