মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪ || ১০ আষাঢ় ১৪৩১

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:০২, ৩০ এপ্রিল ২০২৪

পাঁচবিবিতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের আওতায় স্বাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়

পাঁচবিবিতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের আওতায় স্বাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়
সংগৃহীত

পাঁচবিবিতে সরকারের অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্পের আওতায় ভেড়া, ছাগল, হাঁস মুরগী এবং বকনা ও ষাঁড় বাছুর পালনে দিন দিন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুই সহস্রাধিক পরিবার। যারা এর আগে শুধু মাত্র নিজের প্রয়োজনে মানুষের বাড়ি বাড়ি কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করত, সংসারের আয় উন্নতির জন্য কোন চিন্তাই করত না।

তারাই আজ স্বাবলম্বী হতে চলেছে। অন্যের বাড়ীতে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে নিজেরাই খামারী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। দেশ ব্যাপি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয় ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় এ প্রকল্প শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু এ উপজেলায়। উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ উপজেলার  প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অতি দরিদ্র পরিবারগুলোকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।  প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে প্রদান করা হয় গবাদি পশু, হাঁস মুরগী, ভেড়া, ছাগল।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৬৩ জনকে বকনা বাছুর, ৭০ জন কে ষাঁড়, ৭ শ’ জনকে ভেড়া, ১ হাজার ৩৩২ জনের প্রতি জনকে ২০ টি করে  হাঁস-মুরগী প্রদান করা হয়। সরকারিভাবে হাঁস মুরগী, ভেড়া  পালনের জন্য আদর্শ ঘর, দানাদার খাবার,  প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করছেন  ফিল্ড ফ্যাসিলেটরগন।

উপজেলার দানেজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্টি সম্প্রদায়ের কান্দরু উড়াও এর স্ত্রী বিষনি উড়াও। তার নিজের জমি বলতে কিছুই নেই । থাকেন সরকারের  উপহারের বাড়িতে। তিনি  ২০২১ সালে সরকারের অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে একটি ক্রস ব্রিডের বকনা বাছুর পেয়েছিলেন।

যেটি লালন পালন করে এখন সেটি গাভী।  তিনি জানান, তার কোন গরু ছিল না। কেনার মত সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তুু উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে ২ দিনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর একটি বকনা বাছুর দেন। এরপর বাছুরটি লালন পালন করতে অফিস থেকে দানাদার খাদ্য, চিকিৎসা সহ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেন। পরে সেই বাছুরটি বড় হয়ে দুটি বাছুর দিয়েছে।

যার মূল্য ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা। গাভীটি আবারও বাচ্চা দিবে। গাভীটির মুল্যও এখন লক্ষাধিক টাকা। একই গ্রামের বিধবা বুদি রাণী জানান, তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন। প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে একটি বকনা বাছুর পেয়ে সেটি লালন পালন করে তা থেকে একটি বাছুর ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আর গাভীর দুধ বিক্রি করে নিজের সংসার চালান। এখন আর মানুষের বাড়িতে কাজ করতে হয় না। গরুর লালন পালনে ব্যস্ত থাকতে হয়।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নিয়ায কাযমির রহমান বলেন-ডিপিএলডির আওতায় সমাজের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন মান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এসব উপহার। যাতে তারা উৎসাহিত হয়ে উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারে।

নিজের সন্তানদেরকে শিক্ষিত করতে পারে সেই লক্ষ্যে তাদেরকে হাঁস মুরগী, ছাগল, ভেড়া, গরু ও ঘর ওষুধ প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়ন করতে  ৩ জন ফ্যাসিলেটর নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করে হচ্ছে ।

সর্বশেষ

সর্বশেষ