মঙ্গলবার   ২৫ জুন ২০২৪ || ১০ আষাঢ় ১৪৩১

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৬:০৮, ৬ মে ২০২৪

জয়পুরহাটে উন্নয়নের পথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়

জয়পুরহাটে উন্নয়নের পথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়
সংগৃহীত

জয়পুরহাটে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়। জেলার পাঁচবিবি উপজেলায় সরকারের অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্পের আওতায় গরু, ভেড়া, ছাগল এবং হাঁস-মুরগী পালন করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে অনেকটায় এগিয়ে চলেছেন প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাস করা পিছিয়ে থাকা প্রায় দুই শতাধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা ।

জেলার পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন এমন সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অবহেলিত হিসেবে চিহ্নিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অতি দরিদ্র মানুষজন। দৈনন্দিন কায়িক শ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতে হয় যাদের। আর যাদের একমাত্র আয়ের- উৎসই হচ্ছে অন্যের বাড়িতে শ্রম দেয়া।প্রধানমন্ত্রী পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবন মান ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচী চালু করার ফলেই আজ তারা স্বাবলম্বীর পথে।

২০২০ সালে ক্ষমতাসীন সরকার এ প্রকল্প হাতে নেন।দেশ ব্যাপী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যদিয়ে সমাজের মূল ধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় এ প্রকল্প শুরু হয়। 

এরই ধারাবাহিকতায়-২০২১ সালে পাঁচবিবি উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নিয়ায কাযমির রহমান উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অতি দরিদ্র পরিবারর গুলোকে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের মাঝে বিতরন করা হয় গবাদি পশু, হাঁস মুরগী, ভেড়া। প্রতিটি বাড়ী ঘুরে-ঘুরে এসব প্রকল্প দেখভাল ও তদারকির জন্য তিনি নিজে সহ মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন আরও ৩ জন মাঠ কর্মী।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১৬৩ জনকে বকনা বাছুর, ৭০ জনকে ষাঁড়, ৭শ জনকে ভেড়া, ১ হাজার ৩শ ৩২ জনের মাঝে (প্রতি জনকে) ২০ টি করে হাঁস-মুরগী প্রদান করা হয়েছে।সরকারী ভাবে হাঁস মুরগী, ভেড়া পালনের জন্য আর্দশ ঘর ,গরুর খাবার, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করছেন মাঠ কর্মীরা।

পাচঁবিবি উপজেলার দানেজপুর এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্টি সম্প্রদায়ের কান্দরু উড়াও এর স্ত্রী বিষনী উড়াও। তার নিজের জমি-জমা বলতে কিছুই নেই। থাকেন সরকারের দেয়া উপহারের বাড়িতে। ২০২১ সালে সরকারের অগ্রাধিকার মূলক প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে  ক্রস ব্রিডের একটি বকনা বাছুর পেয়েছিলেন তিনি।যেটি লালন পালন করে এখন গাভীতে পরিনত হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, আমার কোন গরু ছিল না,আর কেনার মত সামর্থ্যও ছিল না। কিন্তু উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে ২ দিনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর একটি বকনা বাছুর দেন। এরপর বাছুরটি লালন পালন করতে অফিস থেকে দানাদার খাদ্য, চিকিৎসা সহ সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেন। পরে সেই বাছুরটি বড় হয়ে জন্ম দিয়েছে দুটি বাছুর। যার মূল্য প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা। গাভীটি আবারো বাচ্চা দিবে। গাভীটিরও মূল্য এখন প্রায় লক্ষাধিক টাকা।

একই গ্রামের বিধবা বুদি রাণী সংসার চালাতেন মানুষের বাড়ীতে কাজ করে । তিনিও প্রাণি সম্পদ অফিস থেকে একটি বকনা বাছুর পেয়ে সেটি লালন পালন করে একটি বাছুরটি  বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা। আর গাভীর দুধ বিক্রি করে সংসার চালান। এখন তাকে আর মানুষের বাড়ীতে কাজ করতে হয় না। গরু লালন পালনের ব্যস্ততার মাঝেই ছলছে তার জীবণ-জীবিকা।

উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের শ্যামলী রাণী তিনি জানিয়েছেন, উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস থেকে দুদিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে পেয়েছেন দুটি ভেড়া। এখন তার বাড়ীতে ভেড়ার সংখ্যা ৬টি। এরমধ্যে একটি ভেড়া বিক্রি করে তৈরী করেছেন ছোট আকারে একটি সেড।আর এই সেডেই ভেড়ার খামারের স্বপ্ন দেখছেন  তিনি।এই গ্রামে এমন আরো অনেকেই এসব লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নিয়ায কাযমির রহমান বলেন,ডিপিএলডি'র আওতায় সমাজের পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন মান ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর এসব উপহার তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বশেষ