গাইবান্ধার সেই অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে উধাও
গাইবান্ধায় রেলওয়ে স্টেশন থেকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করে রেলওয়ে পুলিশ। তবে, হাসপাতাল থেকে উধাও হয়েছেন তারা। তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ রহমান। একইদিন একই হাসপাতাল থেকে আলাদা আলাদা সময়ে উধাও হন তারা।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকে তাদের শারীরিক পরিস্থিতি ইম্প্রুভ (উন্নতি) হচ্ছিল। কিন্তু তাদের দুইজনের একজনকে দুপুর ১টার পর এবং অপরজনকে বিকেল ৫টার পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কিন্তু ভিন্ন তথ্য জানিয়েছে রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দুইজনের মধ্যে গতকালই একজন এবং আজ সন্ধ্যা থেকে অপরজনকে পাওয়া যায়নি।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সকাল থেকে তাদের শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছিল। হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা রেজিস্ট্রার অনুযায়ী ওই দুই ব্যক্তি তুলনামূলক বয়স্ক ব্যক্তিকে দুপুর একটা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপরজনকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তারপরে তাদেরকে আর পাওয়া যায়নি।
এসময় জানতে চাইলে তিনি নার্সদের বরাতে বলেন, তাদের একজন জ্ঞান ফেরার পর কিছু খেতে চাইছিলেন এবং অপরজন নার্সের কেমন লাগছে? প্রশ্নের উত্তরে ‘ভালো লাগছে’ বলছিলেন। এর বেশি কথা বলতে পারেনি এবং নাম-পরিচয় কিছুই জানাতে পারেনি বলেও জানান এই চিকিৎসক।
বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, অসুস্থ্য ওই দুই ব্যক্তি কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর যার যার মতো করে চলে গেছে। আমাদেরকে জানিয়ে যায়নি।
তিনি জানান, গতকাল একজন চলে গেছেন। তাকে আজ সকালে গিয়ে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। আর অপরজনকে আজ সন্ধ্যায় গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না।
এসময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এরকম বাস্তুহারা অনেক মানুষ স্টেশন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। বেওয়ারিশ অনেকজনই তো জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতাভুক্ত থাকে না। তাদেরকে নিয়ে ভয় বা শঙ্কার কিছু নেই।
এরআগে গত রোববার (৩১ মে) সকাল ১০টার দিকে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী অজ্ঞাত পরিচয়ের এই দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বোনারপাড়া রেলওয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসা শুরু হলেও ধীরে ধীরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের দুই জনেরই শারীরিক পরিস্থিতি চরম আশঙ্কাজনক অবস্থাতে পৌঁছায়। কিন্তু যেহেতু পুলিশের রেফারেন্সে ভর্তি করা হয়েছে সেহেতু উন্নত চিকিৎসা জরুরি হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ছাড়া সাঘাটা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা তাদের রেফার করতে অস্বীকৃতি জানায়।
অপরদিকে, উদ্ধারের পর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে-চিকিৎসার দায়িত্ব হাসপাতালের বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ ও সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের নিয়ম নিয়ে এমন ‘ঠেলাঠেলিতে’ অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই ব্যক্তির উন্নত চিকিৎসা হুমকির মুখে পড়ে। পরে ঘটনা নিয়ে একইদিন রাতে ‘মুমুর্ষূ অবস্থায় হাসপাতালে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি/চিকিৎসক-পুলিশের নিয়ম নিয়ে ‘ঠেলাঠেলি’, চিকিৎসা না পেয়েই কী হবে মৃত্যু? শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় ঢাকা পোস্টে। সংবাদ প্রকাশের পর ১ জুন সকাল ৬টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দুই ব্যক্তিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে রেলওয়ে পুলিশ।
এদিকে, গতকাল সোমবার (১ জুন) দুপুরে অজ্ঞাত এই দুই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে আসে রংপুরের তিন সদস্যের সিআইডি টিম। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ওই দুই ব্যক্তির আঙ্গুলের ছাপ ও অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করেন তারা। তবে, বায়োমেট্রিকে ফিঙ্গার টেস্টেও পরিচয় শনাক্ত হয়নি তাদের।
বায়োমেট্রিকে ফিঙ্গার টেস্ট ম্যাচ না হওয়ার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন রংপুর থেকে আসা তিন সদস্যের সিআইডি টিমের এসআই দীপেন্দ্রনাথ।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট


.webp)

.webp)

.webp)
.webp)
.webp)
.webp)







