১৯৭৮: আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপা ও মারিও কেম্পেসের ম্যাজিক
ফুটবল বিশ্বকাপের ১১তম আসরটি অনুষ্ঠিত হয় লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায়। সেবারেই প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের সুযোগ পায় আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত কিন্তু রোমাঞ্চকর এই আসরটি চিরস্মরণীয় হয়ে আছে আর্জেন্টিনার প্রথম শিরোপাজয় এবং ‘এল ম্যাটাডর’ খ্যাত মারিও কেম্পেসের অবিশ্বাস্য নৈপুণ্যের কারণে।
১৯৭৮ বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপট ছিল বেশ জটিল। আর্জেন্টিনা তখন জেনারেল হোর্হে বিদেলার সামরিক জান্তা শাসনের অধীনে। দেশের ভেতর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চললেও বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এই বিশ্বকাপকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল তৎকালীন সরকার।
নিরাপত্তার কারণ এবং সামরিক শাসনের প্রতিবাদে ডাচ কিংবদন্তি জোহান ক্রুইফ এই বিশ্বকাপে অংশ নেননি, যা আজও ফুটবল বিশ্বের আক্ষেপের বিষয়। ক্রুইফহীন নেদারল্যান্ডস তবুও ফাইনালে উঠেছিল।
টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় ছিল দ্বিতীয় পর্বের আর্জেন্টিনা ও পেরু মধ্যকার ম্যাচটি। ফাইনালে উঠতে হলে আর্জেন্টিনাকে জিততে হতো অন্তত চার গোলের ব্যবধানে। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও আলবিসেলেস্তেরা সেই ম্যাচ জিতেছিল ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
গুঞ্জন ছিল, সামরিক সরকার পর্দার আড়ালে পেরুকে বিপুল পরিমাণ গম এবং আর্থিক সুবিধা দিয়েছিল। তবে এর কোনো দালিলিক প্রমাণ মেলেনি।
আর্জেন্টিনার এই প্রথম বিশ্বজয়ের একমাত্র রাজপুত্র ছিলেন ফরোয়ার্ড মারিও কেম্পেস। টুর্নামেন্টের শুরুতে গ্রুপ পর্বে কোনো গোল না পেয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু নকআউট পর্ব শুরু হতেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন এই লম্বা চুলের স্ট্রাইকার।
পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৬টি গোল করে তিনি একাই জিতে নেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট এবং আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’।
ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে তার করা চোখধাঁধানো জোড়া গোল আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় বহুকাঙ্ক্ষিত প্রথম বিশ্বসেরার মুকুট। কেম্পেসের সেই গতিময় দৌড় আর লম্বা চুলের সাম্বা ঢঙের ড্রিবলিং আজও ফুটবল প্রেমীদের স্মৃতির পাতায় অম্লান। জোহান ক্রুইফহীন নেদারল্যান্ডসও কম শক্তিশালী ছিল না। তারা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে।
বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ফাইনালের ম্যাচটি রূপ নিয়েছিল এক মহাকাব্যে। জোহান ক্রুইফহীন নেদারল্যান্ডস ছিল সমানে সমান শক্তিশালী। তারাটানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ডাচ ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে মরিয়া ছিল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা যখন ১-১ গোলের টানটান সমতায় শেষ হয়, তখন ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ে ডাচদের সব প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার করে দিয়ে আর্জেন্টিনার আরও দুটি গোল করে ৩-১ ব্যবধানে তাদের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম সাদা-আকাশি কাগজের টুকরোয় ডেকে যায়।
অন্যদিকে ডাচদের জন্য এটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের ট্র্যাজিক এক বিদায়। ১৯৭৪ সালের পর ১৯৭৮, টানা দুবার ফাইনালে উঠেও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি ফুটবলের এই ডাচ ডিনামাইটদের।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

.webp)


.webp)







.webp)
.webp)

