নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, ঢাবির জিয়া হল ডিবেটিং ক্লাব ছাড়লেন দুই বিতার্কিক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব ও সাংগঠনিক নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন ক্লাবের দুইজন বিতার্কিক।
পদত্যাগকারীরা হলেন- ক্লাবের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অলিউল হাসান অলি এবং সহ-সভাপতি মো. শাকিল হোসেন।
সোমবার হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর পৃথক পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তারা পদত্যাগের বিষয়টি জানান। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ক্লাবটিতে বহুমত, মুক্তচিন্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে ওঠার প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের অধীনে ক্লাব পরিচালিত হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, ক্লাবের গঠনতন্ত্রে নিরপেক্ষতার নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের কারণে সেই নিরপেক্ষতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে ভিন্নমত ও বহুমতের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সুস্থ বিতর্ক সংস্কৃতি সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ, বিতার্কিক আমিরুল ইসলাম, রমিম ও ইমামুল উপস্থিত ছিলেন।
অলিউল হাসান অলি তার পদত্যাগপত্রে বলেন, নীতিগত অবস্থান ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের জায়গা থেকে আমি ক্লাবের সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি একই সঙ্গে হল প্রশাসনের প্রতি বর্তমান ‘প্রশ্নবিদ্ধ কমিটি’ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি নাইমুল হাসান বলেন, ক্লাবের গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে কোনো রাজনৈতিক কর্মী সরাসরি নির্বাচন করতে পারবে না এবং ভোটাধিকারও নির্ধারিত হয় উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে। বর্তমান কমিটি নির্বাচিত হয়েছে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই।
নাইমুল আরও বলেন, গত এক বছর আগে গঠিত এই কমিটি দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ছিল। কিন্তু সম্প্রতি, বিশেষ করে শেষ এক মাসে, কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ক্লাবের কার্যক্রমে অনুপস্থিত ছিলেন এবং এখন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবে নিয়মিত উপস্থিতি ছাড়া কেউ ভোটার বা কমিটির সদস্য হতে পারে না।
সভাপতি আরও দাবি করেন, যারা অভিযোগ করছে তারাও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে বর্তমান কমিটিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট















