বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৩২, ১১ জুন ২০২৬

অনুমোদন পেলো আনোয়ারা-চকরিয়া মহাসড়ক, অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের

অনুমোদন পেলো আনোয়ারা-চকরিয়া মহাসড়ক, অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের
সংগৃহীত

দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

অন্যদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও অর্থনৈতিক করিডোর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি এখনও পরিকল্পনার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। একনেকে আনোয়ারা-চকরিয়া আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পেলেও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সম্প্রসারণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার আটশ ৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন তিন হাজার আটশ ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অন্যতম হলো আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কালাবিবির দিঘি থেকে শুরু হয়ে চকরিয়ার ঈদমনি পর্যন্ত বিদ্যমান ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে ১০ দশমিক ৩০ মিটার প্রস্থে উন্নীত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম আঞ্চলিক সড়ক। এ পথে বাঁশখালী ইকোপার্ক, বাঁশখালী সমুদ্রসৈকত, বৈলগাঁও চা-বাগান, নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গন্ডামারা বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, কেইপিজেড, পেকুয়া, চকরিয়া ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে যাতায়াত করা হয়। সড়কটি যানবাহনের চাপের তুলনায় সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক কর্ণফুলী টানেলের মাধ্যমে সরাসরি চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রায় দুই হাজার মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনাবিদদের মতে, বর্তমানে ঢাকা থেকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরগামী যানবাহনকে কর্ণফুলী টানেল হয়ে আনোয়ারা-শিকলবাহা ওয়াই জংশন-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে প্রায় একশ ৩১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কর্ণফুলী টানেল থেকে কালাবিবির দিঘি-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে দূরত্ব কমে ৯১ কিলোমিটারে নেমে আসবে। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ এবং প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাসময় সাশ্রয় হবে। নগরায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিকল্প নেই। বিশেষ করে কর্ণফুলী টানেলের কার্যকারিতা বাড়াতে সংযোগ সড়কগুলোকে প্রশস্ত ও উন্নত করতে হবে। এতে মাতারবাড়ী, চট্টগ্রাম বন্দর এবং টানেল ব্যবহারের সুবিধা বাড়বে, দুর্ঘটনা কমবে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অন্যদিকে, কক্সবাজারগামী যানবাহন কর্ণফুলী টানেল হয়ে কালাবিবির দিঘি-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-একতাবাজার অথবা ঈদমনি-চকরিয়া রুট ব্যবহার করলে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরত্ব এবং ৪৫ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় ৩০ দশমিক ৮৬ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৪ লাখ ১০ হাজার সাতশ ৮৩ ঘনমিটার মাটির কাজ, ৪৪ দশমিক  তিনশ ৮৯ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ, ৪৮ দশমিক ০৪৮ কিলোমিটার সার্ফেসিং এবং ১০ দশমিক একশ ৫২ কিলোমিটার আরসিসি পেভমেন্ট নির্মাণ করা হবে।

এ ছাড়া, ৩০টি বাস-বে, ৭৮টি নতুন আরসিসি বক্স কালভার্ট, ১৩টি কালভার্ট প্রশস্তকরণ, প্রায় ১০ কিলোমিটার ইউ-ড্রেন, ১৫ কিলোমিটার সসার ড্রেন, ১২ হাজার বর্গমিটার সিসি ব্লক, দুই কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, তিন কিলোমিটার এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং এবং ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হবে।

অগ্রগতি নেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের

এদিকে কক্সবাজারে পর্যটকদের যাতায়াত, দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখো মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এবং বাণিজ্যিক পরিবহনের প্রধান ভরসা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক বর্তমানে তীব্র যানজট ও ঘনঘন দুর্ঘটনার কারণে জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সরু দুই লেনের এ মহাসড়কে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সড়কটি চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। যদিও মেগা প্রকল্প হিসেবে এখনও অনুমোদন না পেলেও দুর্ঘটনা এড়াতে সওজ জরুরি কিছু স্থানে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করেছে।

দেখা গেছে, দুর্ঘটনাপ্রবণ হটস্পট হিসেবে পরিচিত লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় নয়শ মিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। গত ১১ মে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় দোহাজারী হাইওয়ে সড়ক বিভাগের আওতায় এ কাজ শুরু হয়।

সওজ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অংশে সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা থেকে লোহাগাড়ার রাজঘাটা ব্রিজ পর্যন্ত আট দশমিক চার কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন। এ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

লোহাগাড়ার রাজঘাটা থেকে চুনতির মিঠার দোকান এলাকা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয় ৩৪ কোটি টাকা। আর চুনতির মিঠার দোকান থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ করছে এমএএইচ কনস্ট্রাকশন, যার ব্যয় ৩০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া চন্দনাইশ স্টেশন, লোহাগাড়া উপজেলা সদর বটতলী স্টেশন এবং পদুয়া স্টেশন এলাকায় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও সড়কের দুই পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ করছে মাসুদ হাইটেক নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা।

সওজের চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, আনোয়ারা-চকরিয়া সড়ক প্রকল্পের খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হয়েছিল। জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জানুয়ারি থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে উন্নীত করার যে পরিকল্পনা রয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে যেতে আরও চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক প্রশস্ত করছি, যাতে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যায়।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

বৃহস্পতিবার   ১১ জুন ২০২৬ || ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম