শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬ || ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৬:১০, ২ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট যাবে মালয়েশিয়ায়

কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট যাবে মালয়েশিয়ায়
সংগৃহীত

দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগে অগ্রগতি হয়েছে। মালয়েশিয়ার সুলভ মূল্যের বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়া কক্সবাজার-পেনাং রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

মন্ত্রী বলেন, “এয়ার এশিয়া কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে নিশ্চিত করেছে।” বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

চলতি মাসে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতির মধ্যেই এ অগ্রগতি এসেছে। কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন ও বিমান চলাচলের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আরও আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে কক্সবাজার-কাঠমান্ডু-কক্সবাজার সরাসরি ফ্লাইট এবং চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের পর্যটকদের আকৃষ্ট করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও কক্সবাজারের সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পর্যটক আকর্ষণের সুযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এয়ার এশিয়া কবে থেকে কক্সবাজার-পেনাং রুটে ফ্লাইট শুরু করবে কিংবা সপ্তাহে কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। সরকারের লক্ষ্য কক্সবাজারকে শুধু দেশীয় পর্যটকদের গন্তব্য না রেখে আন্তর্জাতিক পর্যটনের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজার বিমানবন্দরের নবনির্মিত যাত্রী টার্মিনাল গত সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (অপারেশন্স অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন টার্মিনালে প্রাথমিকভাবে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের সেবা দেওয়া হবে। পরে এটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে।

প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালটি প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, লাগেজ বেল্ট, নিরাপত্তা তল্লাশি, লিফট, এসকেলেটর ও বোর্ডিং ব্রিজসহ আধুনিক সুবিধা রয়েছে। টার্মিনাল সম্প্রসারণের ফলে বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী পরিচালন সক্ষমতা প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১৮ লাখে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৪৩ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। বেবিচক জানিয়েছে, বর্ধিত রানওয়েটি বর্তমানে দেশের দীর্ঘতম এবং ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী।

সরকারের আশা, মালয়েশিয়া, নেপাল, চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে বিদেশি পর্যটক বাড়ার পাশাপাশি হোটেল-রিসোর্টে বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সাবেক সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বার হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম, যৌক্তিক বিমানবন্দর ফি ও পর্যটন গন্তব্যের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬ || ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম