লাহোর থেকে মুর্শিদাবাদ, অরিজিৎ সিংয়ের শেকড়ের অজানা গল্প
ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এলো তার পরিবারের এক আবেগঘন ইতিহাস। দেশভাগের সময় বর্তমান পাকিস্তানের লাহোর থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদে থিতু হওয়া এবং শিখ ধর্মাবলম্বী হয়েও বাংলার আলো-বাতাসে বড় হওয়ার সেই গল্প জানিয়েছেন শিল্পীর বাবা সুরিন্দর সিং।
সম্প্রতি দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অরিজিৎ সিংয়ের পূর্বপুরুষদের এই সংগ্রামের কাহিনী।
অরিজিতের বাবা সুরিন্দর সিং জানান, তাদের পৈতৃক নিবাস ছিল লাহোরের কাছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তার বাবা ও তিন ভাই সবকিছু ছেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের লালগোলায় আশ্রয় নেন। পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন তারা।
এরপর এই পরিবারটি জীবন গড়ার তাগিদে একপর্যায়ে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে নদীর তীরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষেরা মিলে একটি গুরুদুয়ারা প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক মেলবন্ধনের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
জিয়াগঞ্জের মানুষের কাছে ‘শমু’ নামে পরিচিত অরিজিতের সংগীতের হাতেখড়ি হয়েছিল খুব ছোটবেলাতেই। শৈশবে মায়ের সঙ্গে স্থানীয় গুরুদুয়ারায় গিয়ে কীর্তন গাইতেন তিনি।
২০১৩ সালে দেশজুড়ে খ্যাতি পাওয়ার পরও নাড়ির টানে বারবার জিয়াগঞ্জেই ফিরে এসেছেন এই গায়ক। মুম্বাইয়ের চাকচিক্য তাকে টানেনি। এমনকি বর্তমানে তার সন্তানরাও স্থানীয় স্কুলেই পড়াশোনা করছে।

অরিজিৎ নিজেও এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন দাতব্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এও শোনা যাচ্ছে, এখন মুম্বাইয়ের চেয়ে নিজের বাড়িতেই বেশি সময় কাটান অরিজিৎ। গানের যত কাজ করেন নিজের ঘরোয়া স্টুডিও থেকেই।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জানুয়ারি হঠাৎ করেই প্লেব্যাক সংগীত থেকে অবসরের ঘোষণা দেন অরিজিৎ সিং, যা ভক্তদের মাঝে একরকম ধাক্কাই ছিল বলা চলে। তবে অবসরের খবরের মাঝেই মুক্তি পেয়েছে তার নতুন গান ‘রায়না’। শেখর রাভজিয়ানির সুরে ও প্রিয়া সারাইয়ার কথায় গানটি ইতিমধ্যে শ্রোতাদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ডিএ
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

















