শুক্রবার   ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ || ২৫ পৌষ ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১০:১৮, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশি বলে নির্যাতন

ভারতে মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশি বলে নির্যাতন
সংগৃহীত

ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন ভারতের মুসলিম নাগরিকরা। বাংলাদেশি ট্যাগ দিয়ে তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মমতা। এতে অনেকে ভয়ে নিজ রাজ্যে ফিরে আসছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ওড়িশাসহ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের ওপর চলা নির্যাতন থামানো যাচ্ছে না। এতে করে ভয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের মানুষ তাদের নিজ রাজ্যে ফিরে আসছেন।

এরফলে তারা কাজকর্ম হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন। এরমধ্যে সর্বশেষ নির্মমতার শিকার হয়েছেন ইজাজ আলী নামে এক ব্যক্তি। তিনি ওড়িশার সম্বলপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত রোববার কিছু হিন্দুত্ববাদী গিয়ে তাকে ও তার সাথে থাকা অন্যান্যদের বাংলাদেশি ট্যাগ দিয়ে মারধর করে। এতে করে তার একটি হাত ভেঙে গেছে।

সহিংসতার কারণে ওড়িশা ছাড়াও ছত্রিশগড় এবং এর পার্শ্বর্তী রাজ্যগুলোতে থাকা মুসলিমরা ভয়ে কাজে যাচ্ছেন না। তারা আশঙ্কা করছেন যে কোনো সময় তাদেরে ওপর হামলা চালানো হবে।

ওড়িশার সম্বলপুরের পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, ইজাজ আলী নামে ওই ব্যক্তিকে নির্যাতন করে হাত ভেঙে দেওয়ার পর সেখানে ছুটে যেতে হয়েছে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। তিনি সেখানে থাকা বাঙালি শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করে তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।

২৭ বছর বয়সী ইজাজ আলী পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের বাসিন্দা। দুই মাস আগে তিনি কাজের সন্ধানে ওড়িশার সম্বলপুরে যান এবং সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন।

কিন্তু গত সপ্তাহে হিন্দুত্ববাদীদের একটি দল সেখানে তার থাকার ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তাদের কাছে আধার ও ভোটার কার্ড দেখতে চায়। এগুলো দেখানোর পরও বাংলাদেশি হিসেবে অভিহিত করে তাকে ও তার সঙ্গে থাকা অন্যান্যদের লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারধর করে।

নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এজাজ আলী বলেছেন, “আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি। পশ্চিমবঙ্গে কাজ করলে দৈনিক ৪০০ রুপি পাই, কিন্তু বাইরে কাজ করলে পাওয়া যায় এক হাজার রুপি। আমিসহ আরও ১৫ জন দুই মাস আগে এক লেবার কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে সম্বলপুরে গিয়েছিলাম একটি ভবন নির্মাণে কাজ করতে।”

তিনি বলেন “আমরা দিনে কাজ করতাম। সন্ধ্যার পর নিজেদের জন্য রান্না করতাম। গত সপ্তাহে গেরুয়া রঙের পোশাক পরা ও মাথায় তিলক থাকা সাতজনের একটি দল আমাদের রুমে গিয়ে আধার ও ভোটার কার্ড চায়। আমরা তাদের কার্ড দেখাই। কিন্তু যখন দেখতে পায় আমরা মুসলিম, তারা বলে ‘তোমরা বাংলাদেশি, ভারতীয় নয়’। এ বলে আমাদের রড দিয়ে মারা শুরু করে। আমরা বাঁচার জন্য চিৎকার করি এবং কোনোভাবে সেখান থেকে পালাতে পারি। তারা আমাদের অর্থ, মোবাইল ফোন সব নিয়ে গেছে। যখন বাড়িতে এ খবর জানাই, তখনই আমাকে ফিরে আসতে বলে তারা। আমি জানি না এখন আমি কি করব।”

ছত্রিশগড়ে ঠিক একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিন মুসলিম। তারাও মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। ২৮ বছর বয়সী ইয়াদুল, ৩০ বছর বয়সী নিয়ামুল এবং ৬৫ বছর বয়সী হানিফকে রাজ্যটির নারায়ণপুর নামে একটি শহরে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।

তারা বলেছেন, অর্ডার আনতে নারায়ণপুর যাওয়ার সময় তাদের মহাসড়কে আটকায় আটজনের একটি দল। এ সময় আধার কার্ড দেখতে চায় তারা। কার্ডে যখন ওই হামলাকারীরা দেখতে পায় তারা মুসলিম, এরপর তাদের সেখানেই ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

সর্বশেষ

সর্বশেষ