মঙ্গলবার   ১৭ মার্চ ২০২৬ || ২ চৈত্র ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১১:২২, ১৭ মার্চ ২০২৬

এখনও শেষ হয়নি ইরানের বিশ্বকাপ খেলার আশা!

এখনও শেষ হয়নি ইরানের বিশ্বকাপ খেলার আশা!
সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে পুরোপুরি তিন মাস সময়ও নেই। তবে এখনও বিশ্বকাপের প্রতিযোগী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ লিপ্ত অন্যতম আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যৌথভাবে তারা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। যা দেশটির বিশ্বকাপ খেলার বিষয়টি শঙ্কায় ফেলে দেয় নতুন করে। এরই মাঝে সম্প্রতি ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল জানান, চলমান পরিস্থিতিতে তারা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অবস্থায় নেই।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ডোনিয়ামাল বলেন, ‘এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। আমাদের ওপর কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এতে হাজারও মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল খেলা সম্ভব নয়। তাই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বলেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ফলে এখানেই ইরানের বিশ্বকাপ খেলার আশা শেষ এবং তাদের জায়গায় কারা মেগা ইভেন্টটিতে সুযোগ পাবে সেই আলোচনা শুরু হয়ে যায়। তবে এখনই ইরানের খেলার সম্ভাবনা নাকচ করে দিতে রাজি নন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) জেনারেল সেক্রেটারি উইন্ডসর জন। তিনি বলছেন, ‘তারা আমাদের সদস্য। আমরা চাই তারা খেলুক। যতদূর জানি ইরান খেলতে যাচ্ছে। অবশ্য এটি তাদের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত, সবাই অনেক বিষয়ে বলছে। দিনশেষে তাদের (ইরান) ফেডারেশনই সিদ্ধান্ত নেবে খেলবে কি না, এখন পর্যন্ত ফেডারেশন খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে আমাদের জানিয়েছে।’

বিশ্বকাপ আসর বসবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায়। তবে টুর্নামেন্টের সিংহভাগ মার্কিন ভূমিতে হওয়ায় তাদের প্রতিক্রিয়া এক্ষেত্রে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে একেক সময় একেক রকম ইঙ্গিতবহ কথা বলছেন। বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ইরানের ফুটবলারদের ‘জীবন এবং নিরাপত্তা’ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া অনুপযুক্ত মনে করার পাশাপাশি কিছুদিন ট্রাম্প বলেছিলেন– তারা অংশ নেবে কি না তা আমি পরোয়া করি না। যদিও ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্যমতে– ‘ট্রাম্প জানিয়েছেন, অবশ্যই ইরানিয়ান দলকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলায় স্বাগত জানানো হবে।’

এদিকে, ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের ফুটবলারদের নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি সহজভাবে নিচ্ছে না। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই ফিফাকে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘ফিফাই বিশ্বকাপের আয়োজক। যখন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ইরানিয়ান ফুটবলারদের জন্য পরিস্থিতি অনিরাপদ বলা হয়, এর মানে আয়োজক দেশ স্পষ্টভাবে এমন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ইভেন্টের সামর্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের সক্ষমতা হারিয়েছে।’

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ‘জি’ গ্রুপে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডকে। তাদের ম্যাচগুলো পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলস ও সিয়াটলে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যদি নিজেদের গ্রুপপর্ব পেরোয়, দ্বিতীয় রাউন্ডে তাদের মুখোমুখি সাক্ষাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ডালাসে তাদের এলিমিনেশন ম্যাচ হতে পারে ৩ জুলাই। যদিও আগে থেকেই ইরানি নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞাসহ নানা কড়াকড়ি আরোপ রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এএইচএস

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট