তারাবির নামাজে স্বামী বাইরে, ঘরে হাত-পা বাঁধা স্ত্রীর মরদেহ: গ্রেপ্তার ২
রাজধানীর তুরাগে একটি ‘ক্লুলেস’ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নূরে আলম বাঘ (৪৭) ও মো. রাসেল মাদব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনি (২৫)।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, তুরাগ থানাধীন ১৫ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে নিহত রেজিনা মমতাজ (৫৯) তার স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। গত সোমবার (২ মার্চ) রাত ৮টা ৫ মিনিটে তার স্বামী তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। রাত ৯টা ১৫ মিনিটে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, স্ত্রীর হাত-পা কাপড় দিয়ে বাঁধা, নাক ও মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো এবং তিনি মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘরের মালামাল ছিল এলোমেলো। পরে তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাত ৮টা ১৮ মিনিটে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে নিহতের হাত-পা বেঁধে এবং নাক-মুখে স্কচটেপ প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তারা এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি স্বর্ণের নাকফুল লুট করে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নূরে আলমকে তুরাগের ১৫ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টরের একটি অফিস থেকে লুণ্ঠিত এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি পিতলের নাকফুল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ড ছিল। ঘটনাস্থলে দৃশ্যমান কোনো সুস্পষ্ট আলামত না থাকলেও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট














.jpg)

.jpg)