মালয়েশিয়ায় আরিফুলকে অপহরণের ঘটনায় আন্তঃদেশীয় চক্রের প্রধান কারাগারে
মালয়েশিয়ায় আরিফুল ইসলাম (২৬) নামে শেরপুরের এক প্রবাসীকে অপহরণের চাঞ্চল্যকর মামলায় আন্তঃদেশীয় অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা রবিউল ইসলামকে (৩৫) কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে রবিউলকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হলে জিআর আমলী আদালতের দায়িত্বে থাকা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানীর তারিখ ধার্য করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শেরপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ও তার সঙ্গীয় ফোর্স রবিউলকে গ্রেপ্তার করেন। রবিউল বগুড়া জেলার গাবতলি উপজেলার রামেশ্বরপুর ইউনিয়নের নিশুপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই এনামুল হক এনামুল হক জানান, এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার মামলা। গ্রেপ্তার রবিউল একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারলে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হবে।
উল্লেখ্য, শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের মির্জাপুর কান্দিপাড়া গ্রামের মো. আবুল হাসেমের পুত্র ভুক্তভোগী আরিফুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একটি রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা এবং মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মালয়েশিয়ার জহুরবারু এলাকায় আরিফুলের রেস্টুরেন্টে গিয়ে ৩ জন অপরিচিত লোক সুলভ মূল্যে মাংস দেওয়ার কথা বলে খামারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর তাকে খামারে না নিয়ে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে সঙ্গে থাকা মালয়েশিয়ান সাড়ে ১৩ হাজার রিংগিত ও এটিএমে থাকা ১ হাজার রিংগিত এবং একটি স্মার্টফোন নিয়ে নেয়। এরপরও আরিফুলের কাছে আরও ৭ লাখ টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। আরিফুল প্রাণের ভয়ে নিরুপায় হয়ে বাংলাদেশে ফোন দিয়ে তার মা-বাবার কাছ থেকে ১ লাখ এবং ঢাকায় অবস্থানরত মামা সাংবাদিক মোফাজ্জল হোসেনের কাছ থেকে আরও ৪ লাখ টাকা একটি ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে নিয়ে নেয়। এর দীর্ঘ ৮ ঘন্টা পর অপহরণকারীরা আরিফুলকে মুক্তি দেয়। কিন্তু আরিফুল প্রাণের ভয়ে প্রবাসে তা প্রকাশ করেনি বা আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি। ৮ মার্চ তিনি দেশে ফিরে এলে মামা মোফাজ্জলের সহযোগিতায় তালাশ অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হন, যে বিকাশ এবং ব্যাংক একাউন্ট থেকে টাকা গ্রহণ করা হয়েছে তা ইসলামী ব্যাংক গাবতলী শাখার আসামি রবিউল ইসলামের নামীয়। সেইসাথে আরও জানতে পারেন যে, মালয়েশিয়াতে রবিউলের ২ ভাই অবস্থান করেন।
ওই ঘটনায় আরিফুল ইসলাম নিজেই বাদী হয়ে রবিউল ইসলামকে স্বনামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩ জনকে আসামি করে গত ৮ এপ্রিল শেরপুরের সিআর আমলী আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করলে আদালতের বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড হলে তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই এনামুল হক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিউল ইসলামের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাবতলী পুলিশের সহায়তায় অভিযানে নামে।
মানবাধিকার সংস্থা সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার-ই-তাসলিমা বলেন, “দেশ পরিবার পরিজন ছেড়ে যারা রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে যান, সেসব বীরদের সাথে যারা বাটপারি করে, প্রতারণা করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আর এসব বাটপারদের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।”
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট















