কথিত পীর শামিম হত্যা: ঘটনাস্থলে না থাকলেও প্রধান আসামি জামায়াত নেতা
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর শামীম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের রোকন সদস্য খাজা আহমেদের নামে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আসামী করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় কোর্টপাড়ায় অবস্থিত কুষ্টিয়া শহর জামাতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খাজা আহমেদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন বলেন, দৌলতপুরেরর ফিলিপনগরে ওই মর্মান্তিক ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামী বা দলের কোনো নেতাকর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। অথচ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ও খাজা আহমেদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে প্রধান আসামি করে মামলা দিয়েছে। কারণ সে জামায়াতে ইসলাম মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী।
বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাই একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত অপরাধী এবং নেপথ্যের উসকানিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেন হয়রানি করা না হয়।
দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল নোমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতাকে সমর্থন করে না। খাজা আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিপনগর এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছেন। মূলত তার এই বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণেই একটি কুচক্রী মহল তাকে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। খাজা আহমেদ ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। অথচ তাকে এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়। তিনি ওই এলাকার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাকে কোনঠাসা করতে প্রতিপক্ষরা তাকে এই মামলায় জড়িয়েছে। অথচ বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় খাজ আহমেদ হামলার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক, কুষ্টিয়া শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি ও যুব বিভাগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান পলাশসহ জামায়াত নেতাকর্মী ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগ এনে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর নামের এক পীরের আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে স্থানীয় মুসল্লী ও এলাকাবাসীরা। এ সময় পীর শামীম জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারীদের বেধড়ক মারধর করে তারা। এই ঘটনায় পীর শামীমকে আহত অবস্থায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল ৪টায় মারা যান।
রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে সাড়ে পাঁচটার দিকে ফিলিপনগর এলাকার পশ্চিম-দক্ষিণ কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর রোকন সদস্য খাজা আহমেদকে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট















