‘শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করলে তা ডাবল অপরাধ’
শহীদ পরিবারের কোনো সদস্য জামায়াতে ইসলামী করলে তাকে ‘ডাবল অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতি ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে চরম উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
ফজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না। তিনি ৫ আগস্টের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনা করার কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই তুলনা করা প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে ডোবার তুলনা করার মতো অন্যায়।
জামায়াতে ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে কঠোর মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বলেন, আচ্ছা, আমি যে কথাটা বলতে চেয়েছিলাম, বিরোধীদলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামাতে ইসলাম করেন। এটা ডাবল অপরাধ। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামাত করতে পারে না। শহীদ পরিবারের লোক জামাত করলে ডাবল অপরাধ করতেছে।
বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, অথচ ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই মুক্তিযুদ্ধই ধ্রুব সত্য। দেশের মানুষ তাদের কখনও রাজনৈতিক যুদ্ধে জয়ী হতে দেবে না উল্লেখ করে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, এ দেশে মুক্তিযোদ্ধারা জিতবে, রাজাকাররা কখনও জয় লাভ করতে পারবে না।
তার এসব মন্তব্যের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও হইচই শুরু করলে সংসদ কক্ষ অশান্ত হয়ে ওঠে। উত্তেজনার এক পর্যায়ে ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের অনেকে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে কথা বলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং রুলিং দেন। তিনি বলেন, সারা জাতি এই সংসদ সরাসরি দেখছে, তাই সদস্যদের আচরণে শিশুরা যেন লজ্জা না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। স্পিকার আরও বলেন, সংসদের প্রতি সম্মান না থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে এর কোনো মর্যাদা থাকবে না।
পরবর্তীতে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ফজলুর রহমান তার বক্তব্য চালিয়ে যান এবং ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে সংসদে কোনো শোক প্রস্তাব আনা হলে তা ইতিহাসে ভুল বার্তা দেবে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর প্রতিবাদ জানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে চুপ ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.webp)
.webp)









.webp)