বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ || ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:২৩, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

আন্দোলনে গেলেন একসঙ্গে, নিথর দেহে ফিরেছিলেন রাকিব

আন্দোলনে গেলেন একসঙ্গে, নিথর দেহে ফিরেছিলেন রাকিব
সংগৃহীত

গুলির শব্দে কেঁপে উঠছিল রামপুরা এলাকা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিগ্বিদিক ছুটছিল মানুষ। ঠিক তখনই আড়ালে দাঁড়িয়ে স্মার্টফোনে ভিডিও করতে যান রাকিব। হঠাৎ তার দিকে ছুটে আসে গুলি। মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। রক্তাক্ত সহকর্মীকে কোলে নিয়ে দৌড়াতে থাকেন মারুফ হোসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থামাতে পারেননি মৃত্যু।

রাকিবের মৃত্যুর এমন বর্ণনা উঠে এসেছে মারুফের জবানবন্দিতে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর রামপুরায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল আজ (২৮ এপ্রিল)। চার নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার সাক্ষ্য রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১।

পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশ কোম্পানিতে চাকরি করেন মারুফ। রাকিব তার সহকর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অফিস ভবনের ১৩ তলা থেকে কোটাবিরোধী আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর র‌্যাবের হেলিকপ্টারে করে গুলি চালাতে দেখেছিলেন এই সাক্ষী।

জবানবন্দিতে মারুফ বলেন, ১৯ জুলাই সকাল ১০টার দিকে আমার বাসায় আসেন রাকিব। ওই সময় ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। ইন্টারনেট আছে কিনা দেখার জন্য আমরা দুজন মিলে অফিসে যাই। কিন্তু ছিল না। অফিস থেকে ফেরার সময় আফতাবনগরের ভেতর থেকে আন্দোলনকারী ছাত্ররা রামপুরা মূল সড়কের দিকে যেতে দেখি আমরা। তখন রাকিব আমাকে বলল- 'চলো আমরাও যাই'। এরপর দুজনই তাদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেই।

তিনি বলেন, আফতাবনগর গেট পার হয়ে সামনে এগোতেই অস্ত্রসহ বিজিবি-পুলিশ সদস্যদের রামপুরা ব্রিজের দিকে আসতে দেখি। একপর্যায়ে আন্দোলনরত ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন তারা। গুলির শব্দে আমি, রাকিব ও অন্যান্য ছাত্র-জনতা পিছু হটতে বাধ্য হই। আমরা দুজনে একটি যাত্রী ছাউনির নিচে আশ্রয় নেই। কিছুক্ষণ পর মূল সড়কের দিকে অগ্রসর হন রাকিব। একই সঙ্গে একটি বট গাছের আড়ালে গিয়ে ভিডিও করার জন্য পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করেন।

এর মধ্যেই রাকিবকে পেছনের দিকে পড়ে যেতে দেখেন মারুফ। দৌড়ে কাছে গিয়ে দেখতে পান তার তলপেট থেকে রক্ত বের হচ্ছে। বিজিবি ও পুলিশের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যান রাকিব।

মারুফ বলেন, রাকিবকে কোলে জড়িয়ে ধরে আমি পেছনের দিকে যেতে থাকি। কিছু দূর যাওয়ার পর একটি রিকশায় তোলা হয়। কিন্তু রাকিব পড়ে যান। ওই সময় আমাদের কাছাকাছি চলে আসে বিজিবি-পুলিশ। এরপর আবারও গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে রিকশা রেখে দৌড় দেন চালক। পরবর্তীতে কয়েকজন লোকের সহযোগিতায় রাকিবকে ফের ওই রিকশায় তুলে নিকটস্থ নাগরিক হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসকরা।

তখন রাকিবের ফোনে কল করেন তার দুলাভাই। পরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জানিয়ে হাসপাতালে আসতে বলেন মারুফ। এরপর নাগরিক হাসপাতালে এসে অ্যাম্বুলেন্সে রাকিবকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান তার মা ও দুলাভাই।

সাক্ষ্যে মারুফ উল্লেখ করেন, শরীরে রক্ত থাকায় তিনি ঢামেক হাসপাতালে যেতে পারেননি। পরে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। মসজিদ থেকে বাসায় ফেরার পর ফোনে রাকিবের মৃত্যুর খবর পান তিনি। বিজিবির রেদোয়ান, পুলিশের রাশেদ, ওসি মশিউররা ওই দিন রামপুরায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণ করেছে বলে পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন এই সাক্ষী। এছাড়া রাকিবের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চেয়েছেন তিনি।

ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে গত ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাকিবের মা হাসি আক্তার। তার জেরা শেষ হয় ১৫ এপ্রিল।

এ মামলায় চার আসামির মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। 

পলাতকরা হলেন- ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

অনলাইন জরিপ

বুধবার   ২৯ এপ্রিল ২০২৬ || ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন