চোখে কম দেখি, সময় পেলে পারতাম : বঞ্চনার শিকার মিতু
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে ঘিরে দাখিল পরীক্ষায় প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাহ্ বাজার এ এইচ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৩৮০) এর ১নম্বর হলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ভাঙামোড় দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মৃধা ফারজানা মিতু বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে মিতুকে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের মতোই পরীক্ষা দিতে দেখা যায়। অথচ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়সহ বিশেষ সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী মৃধা ফারজানা মিতু বলেন, আমি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এবং সরকারি ভাতাও পাই। এর আগে একবার দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েও কোনো বাড়তি সুবিধা না পাওয়ায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হই। এবার সেই বিষয়গুলোতেই পুনরায় পরীক্ষা দিচ্ছি। ‘চোখে কম দেখি, তাই দ্রুত লিখতে পারি না। নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় পেলে আমি ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পারতাম।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আবেদন করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পাওয়ার দাবিদার। আবেদন করার পরও যদি সে তা না পায়, তাহলে এটি স্পষ্টভাবে তার অধিকার লঙ্ঘন। একটু অতিরিক্ত সময় পেলে সে আরও ভালো করতে পারতো।
ওই দাখিল মাদ্রাসার সুপার ইসমাইল হোসেন বলেন, পূর্বে মিতুর পরিবার থেকে কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে পরীক্ষার দিন কেন্দ্র সচিবের কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
শাহ্ বাজার এ এইচ ফাজিল মাদ্রাসার কেন্দ্র সচিব মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত আবেদন পাইনি। আবেদন পাওয়া গেলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা আক্তার জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী মিতু পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এ তথ্য আগে থেকে জানা ছিল না। মঙ্গলবার পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্র সচিব বিষয়টি অবগত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতে যেন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী মিতু প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সময়সহ সব ধরনের সুবিধা পায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

















