লালদিঘীতে বলি খেলার ঐতিহ্য নিয়ে ম্যুরাল, চত্বরের নাম ‘জব্বার চত্বর’
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী চত্বরে বলি খেলার প্রতিকৃতি সম্বলিত একটি ম্যুরাল উদ্বোধন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। একই সঙ্গে চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছে বলি খেলার প্রবর্তক আব্দুল জব্বার সওদাগরের নামে— ‘জব্বার চত্বর’।
আজ (বুধবার) দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ম্যুরালটির উদ্বোধন করা হয়। নতুন ম্যুরালটি টেরাকোটার ত্রিভুজাকৃতির কাঠামোয় নির্মিত। এতে একপাশে বলি খেলার প্রতিকৃতি, অন্য পাশে হাতুড়ির প্রতীক দিয়ে ন্যায়বিচারের ধারণা এবং আরেক পাশে শেকল ভাঙার দৃশ্যের মাধ্যমে লালদিঘীর ঐতিহাসিক সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলি খেলার ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং আব্দুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল।
সেখানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আয়োজকদের পক্ষ থেকে চত্বরটির নামকরণের প্রস্তাব পান তিনি। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতেই আজকের এই উদ্যোগ।
তিনি জানান, ম্যুরালটি শুধু বলি খেলা নয়, চট্টগ্রামের সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবেও নির্মিত হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে আব্দুল জব্বারের ঐতিহাসিক বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা। শনিবার লালদিঘী মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বলি খেলার ১১৭তম আসর। উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
২৬ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা থাকায়, লালদিঘী মাঠসংলগ্ন সরকারি মুসলিম হাই স্কুলে পরীক্ষার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে মেলা রোববার ভোরের মধ্যেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেলা উপলক্ষে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক দলের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান। পরিচালনা করেন সদস্য আলী হাসান রাজু। এ সময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেলসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় স্থানীয় যুবকদের সংগঠিত করতে লালদিঘী মাঠে কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন আব্দুল জব্বার সওদাগর। সেই আয়োজনই পরবর্তীতে ‘বলি খেলা’ নামে পরিচিতি পায়। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর ১২ বৈশাখ এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়, আর এর সঙ্গে যুক্ত মেলা আজ চট্টগ্রামবাসীর অন্যতম বৃহৎ উৎসবে পরিণত হয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট













