রোববার   ১০ মে ২০২৬ || ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৫৪, ১০ মে ২০২৬

১২ বছর পর কি তবে শেষ হতে যাচ্ছে ইতিহাস নির্ভর তুর্কি ড্রামার স্বর্ণযুগ?

১২ বছর পর কি তবে শেষ হতে যাচ্ছে ইতিহাস নির্ভর তুর্কি ড্রামার স্বর্ণযুগ?
সংগৃহীত

টানা এক যুগ ধরে বিশ্বজুড়ে ঝড় তোলা তুরস্কের ঐতিহাসিক ড্রামা সিরিজে কি তবে যবনিকা পড়তে যাচ্ছে? দীর্ঘ ১২ বছরের সফল পথচলা শেষে অনেকটা আকস্মিকভাবেই থমকে গেছে উসমানীয় সাম্রাজ্যের উত্থান নিয়ে নির্মিত বিশাল এই প্রজেক্ট। সুলতান ওরহানের জীবনীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত সিরিজ ‘কুরুলুস ওরহান’ মাত্র এক সিজন চলার পরই বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই সিরিজটি ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি।

২০১৪ সালে ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’ দিয়ে ইতিহাস নির্ভর তুর্কি ড্রামার যে মহাকাব্যিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ‘কুরুলুস উসমান’ হয়ে ওরহান পর্যন্ত পৌঁছালেও এবার বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। প্রশ্ন উঠেছে, কেন দর্শকপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই জয়যাত্রা হুট করে থমকে গেল? এ কি নিছক একটি সিরিজের ব্যর্থতা, নাকি দর্শকদের রুচির পরিবর্তন ও বাজারের নতুন সমীকরণ?

আরতুগ্রুল : এক বিশ্বজনীন আইকন

তুর্কি ড্রামার এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মূলে ছিল ‘দিরিলিস আরতুগ্রুল’। পাঁচ সিজন ধরে চলা এই সিরিজটি তুরস্কের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে এক অভাবনীয় উন্মাদনা তৈরি করেছিল। আরতুগ্রুল চরিত্রে অভিনয় করা এঙ্গিন আলতান দোজায়তান রাতারাতি বিশ্বতারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে আরব বিশ্ব এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সিরিজটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, আরতুগ্রুল চরিত্রটি শুধু একটি নাম নয়, বরং ইনসাফ ও বীরত্বের এক প্রতীকে পরিণত হয়। এই অভাবনীয় সাফল্যই পরবর্তী প্রজন্মের গল্প বলার পথ প্রশস্ত করেছিল।

উসমানের চ্যালেঞ্জ ও বুরাক ওজচিভিতের বাজিমাত

বাবার পর ছেলের গল্প নিয়ে শুরু হয় ‘কুরুলুস উসমান’। এঙ্গিন আলতানের বিশাল জনপ্রিয়তার পর উসমান হিসেবে বুরাক ওজচিভিতকে মেনে নেওয়া দর্শকের জন্য শুরুতে কিছুটা কঠিন ছিল। বুরাক তখন রোমান্টিক হিরো হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তবে ছয়টি সিজন ধরে বুরাক তার অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি শুধু সুদর্শন নায়ক নন, বরং একজন দৃঢ়চেতা শাসকের চরিত্রেও অনন্য। কুরুলুস উসমান আরতুগ্রুলের সেই গরিমা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিল।

কেন ব্যর্থ হলো ওরহান?

উসমানের উত্তরসূরি সুলতান ওরহানের ইতিহাস নির্ভর সিরিজটি নিয়ে যখন ঘোষণা এল, তখন ধারণা করা হয়েছিল এটিও অন্তত চার-পাঁচ বছর রাজত্ব করবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেল। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে প্রকল্পটি ব্যর্থ হয়েছে।

প্রথমত, কেন্দ্রীয় চরিত্রে মের্ত ইয়াজজিউওলুর নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। একজন ঐতিহাসিক বীর যোদ্ধা ও শাসকের যে ব্যক্তিত্ব বা গাম্ভীর্য পর্দায় ফুটিয়ে তোলা প্রয়োজন, তা মের্তের মধ্যে খুঁজে পাননি দর্শকরা। তার পারফরম্যান্স ভালো হলেও একজন লিডার বা নেতা হিসেবে তিনি দর্শকদের আস্থা অর্জন করতে পারেননি।

দ্বিতীয়ত, বাজেটের সীমাবদ্ধতা ছিল স্পষ্ট। আগের সিরিজগুলোতে যুদ্ধের যে বিশাল আয়োজন বা দৃশ্যায়ন দেখা যেত, ওরহানে তা ছিল অনুপস্থিত। এছাড়া গল্পের ধীরগতি এবং একই ধরনের সংঘাত বারবার ফিরে আসা দর্শকদের বিরক্ত করেছে। নতুন কোনো চমক না থাকায় ক্রমেই রেটিং কমতে থাকে।

 

রুচির পরিবর্তন নাকি বাজারের চাপ?

ওরহান সিরিজ হঠাৎ বন্ধ ঘোষণার পেছনে শুধু মেকিং নয়, দর্শকদের মানসিক পরিবর্তনকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একই ঘরানার তলোয়ারবাজি আর ষড়যন্ত্রের গল্প দেখতে দেখতে দর্শক কিছুটা ক্লান্ত। বর্তমানে তুরস্কসহ বিশ্ববাজারে সমসাময়িক বাস্তবধর্মী রোমান্টিক বা সামাজিক ড্রামার চাহিদা অনেক বেড়েছে। দ্রুতগতির থ্রিলার ও আধুনিক জীবনের গল্পের কাছে পিছিয়ে পড়ছে দীর্ঘমেয়াদী ঐতিহাসিক ফিকশন

তবে কারণ যাই হোক, ‘ফাউন্ডার ওরহান’ বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি যুগের অবসান বলেই মনে করছেন সমালোচকরা। আরতুগ্রুল দিয়ে যে সোনালী অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ওরহানের বিদায়ে তা কি চিরতরে হারিয়ে যাবে নাকি নতুন কোনো রূপে আবার ফিরে আসবে তুর্কি ঐতিহাসিক ড্রামা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সূত্র : আল জাজিরা

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

রোববার   ১০ মে ২০২৬ || ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন