সোমবার   ০৯ মার্চ ২০২৬ || ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৩:২৪, ৯ মার্চ ২০২৬

কঠিন সময়ে শচীনের পরামর্শই ছিল স্যামসনের শক্তি

কঠিন সময়ে শচীনের পরামর্শই ছিল স্যামসনের শক্তি
সংগৃহীত

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খারাপ করার পর সাঞ্জু স্যামসনের মনে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার অনুভূতি হয়েছিল। কিন্তু গত দুই মাস ধরে শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলে তার বিশ্বাস হয়েছে, তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।

ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর স্যামসন জানালেন, শচীনের পরামর্শ ছিল তার শক্তি। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে তিনি বললেন, ‘প্রত্যাবর্তনের পথে সতীর্থ ও কোচেরা তাঁকে অনেক সাহায্য করেছেন বলে জানিয়েছেন সঞ্জু। তবে বিশেষ একজনের কথা বলেছেন ভারতীয় ব্যাটার। তিনি সচিন তেন্ডুলকর। সঞ্জু বললেন, ‘সিনিয়র খেলোয়াড়দের থেকে অনেক নির্দেশনা ও পরামর্শ পেয়েছিলাম। অনেক সাবেক খেলোয়াড় আমাকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছিল। গত দুই মাস ধরে... আমার মনে হয় এখানে শেয়ার করা উচিত। শচীন (টেন্ডুলকার) স্যারের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ ছিল। যখনই অস্ট্রেলিয়ায় (অক্টোবরে টি-টোয়েন্টি সিরিজে) বাইরে বসে থেকেছি, খেলার সুযোগ পাইনি। ভাবছিলাম কোন ধরনের মানসিকতা দরকার। তখনই স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেক কথা হয়েছে তার সঙ্গে। উনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। গতকালও স্যার আমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করেছেন, মনের মধ্যে কী চলছে। শচীন স্যার যেভাবে সাহায্য করেছেন, তা বলে বোঝাতে পারব না।’

ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর মানসিকভাবে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন স্যামসন। পাঁচ ইনিংসে মাত্র ৪৬ রান করে একাদশে ইশান কিষাণের কাছে জায়গা হারান। সুপার এইটের আগে পর্যন্ত সুযোগ পাননি।

স্যামসন সুযোগ পেয়েই জাত চেনালেন। তিনটি বাঁচা-মরার ম্যাচে অপরাজিত ৯৭, ৮৯ ও ৮৯ রান করলেন। মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলে টুর্নামেন্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩২১ রান করেছেন ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে।

তিনি বললেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজ শেষে আমি ভেঙে পড়েছিলাম, মনোবলে জোরে আঘাত লেগেছিল। মনে হচ্ছিল আমার স্বপ্ন ধূলিস্মাৎ হয়ে গেছে। মনকে বললাম, ‘ঠিক আছে, কী আর করতে পারি’। কিন্তু ঈশ্বরের অন্য পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনাল) ম্যাচে ডাক পেলাম। আমি সেটাই করেছি দেশের জন্য যা দরকার। আমি খুব গর্বিত এবং খুশি যে এটা নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখার যথেষ্ট সাহস পেয়েছি। সবকিছু আমার জন্য সুন্দর গেছে, তাই আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

স্যামসন ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী স্কোয়াডে ছিলেন। রোহিত শর্মার সেই দলের হয়ে টুর্নামেন্টে কোনো ম্যাচ খেলেননি তিনি। ওই সময়ই তিনি ঘুরে দাঁড়ানোর পণ করেন। যে স্বপ্ন বুনেছিলেন, সেটাই আহমেদবাদে বাস্তব হলো।

তার কথা, ‘এই পুরো প্রক্রিয়া এক দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল, যখন আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে ছিলাম। আমি কোনো ম্যাচ খেলিনি, কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখে গিয়েছি, কাজ করেছি। ওই সময় আমি এটাই চেয়েছিলাম। ঈশ্বরের আশীর্বাদে আজ সবকিছু পাল্টে গেছে। এটা কিছুটা অবাস্তব মনে হচ্ছে। এটা আমার জন্য খুব বড়, আমি এখন এটা উপভোগ করতে চাই।’

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

সর্বশেষ