মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬ || ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৬:৪০, ৩ মে ২০২৬

কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার বহুরূপ, কেন কমছে নারীর অংশগ্রহণ

কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার বহুরূপ, কেন কমছে নারীর অংশগ্রহণ
সংগৃহীত

বাংলাদেশে নারীর কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বেড়েছে, এ কথা সত্য। কিন্তু সেই অগ্রযাত্রা এখন নানা সংকটে চাপে পড়েছে। কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা শুধু শারীরিক আঘাতে সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্যে রয়েছে মৌখিক অপমান, মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি, বেতনবৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং অভিযোগ করেও প্রতিকার না পাওয়ার অভিজ্ঞতা। এসব কারণে অনেক নারী চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন, অনেকে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকতে পারছেন না, আবার কেউ কেউ শুরুতেই নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

পরিসংখ্যানও এ উদ্বেগকে স্পষ্ট করে। এক গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে নারীর শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ২০১০ সালের ৩৬ শতাংশ থেকে ২০১৩ সালে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। আবার ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপে নারীর অংশগ্রহণের হার ৪০ দশমিক ৮৯ শতাংশ দেখা গেলেও ২০২৩ সালের ২ দশমিক ৫৩ কোটি নারী শ্রমশক্তি ২০২৪ সালে কমে ২ দশমিক ৩৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ অংশগ্রহণের হার ও মোট সংখ্যার মধ্যে এই পার্থক্যই দেখায়, বাস্তবে কর্মে যুক্ত নারীদের অবস্থান এখনো ভঙ্গুর এবং অনিশ্চিত।

কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার সবচেয়ে প্রচলিত রূপ হলো মৌখিক ও মানসিক নির্যাতন। অনেক নারীকে প্রতিনিয়ত শুনতে হয়, মেয়েরা চাপের কাজ সামলাতে পারে না, বিয়ে হলে তো চাকরি ছাড়বেই, কিংবা এই পদে নারী মানায় না। এসব মন্তব্য শুধু অপমানজনকই নয়, নারীর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয় এবং কর্মপরিবেশকে বৈরী করে তোলে। এর সঙ্গে যখন যুক্ত হয় অসম বেতন, পদোন্নতিতে বৈষম্য, মাতৃত্বকালীন সুবিধার ঘাটতি, নিরাপদ যাতায়াতের অভাব এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, তখন কর্মক্ষেত্র আরও অনিরাপদ হয়ে ওঠে।

যৌন হয়রানি এই সংকটকে আরও তীব্র করে। অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য, অশোভন অঙ্গভঙ্গি, ব্যক্তিগত বার্তা, অনভিপ্রেত স্পর্শ, এমনকি চাকরি বা মূল্যায়নের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চাপের মতো বিষয় অনেক নারীকে নীরবে সহ্য করতে হয়। অভিযোগ করলে চাকরি হারানোর ভয়, বদলি হওয়ার আশঙ্কা, কিংবা উল্টো অপমানিত হওয়ার সংস্কৃতি এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৩৯ জন সাংবাদিকের মধ্যে ১৫ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। নারী সাংবাদিকেরা পুরুষদের তুলনায় বেশি মৌখিক, অনলাইন ও শারীরিক হয়রানির মুখে পড়েছেন এবং বহু ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ উদাহরণ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, সাংবাদিকতা তুলনামূলক দৃশ্যমান ও সংগঠিত পেশা। সেখানে যদি এমন চিত্র দেখা যায়, তবে অনানুষ্ঠানিক খাত, নিম্নআয়ের কাজ, কারখানা বা সেবা খাতে পরিস্থিতি যে আরও কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬ || ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন