গাইবান্ধায় গুটি বসন্তে শিক্ষকের মৃত্যু, আক্রান্ত স্ত্রী ও ২ সন্তান
গাইবান্ধায় গুটি বসন্ত (পক্স) রোগে আক্রান্ত হয়ে ইতিশ চন্দ্র দাস (৪৫) নামে এক স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। একই রোগে আক্রান্ত রয়েছেন ওই তার স্ত্রী ও দুই সন্তান।
তারা হলেন- শিক্ষক ইতিশ চন্দ্র দাসের স্ত্রী সুচনা রানী, বড় ছেলে প্রিমল দাস ও ছোট ছেলে অমীত দাস।
সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার ইপিআই সুপারিন্টেন্ডেন্ট শরীফুজ্জামান।
তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ওই এলাকায় তথ্য ও নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।
তারা নিহতের পরিবারে যারা আক্রান্ত তাদের নমুনা সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।
রিপোর্ট পেলে নিশ্চিত হওয়া যাবে ইতিশ চন্দ্র কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বা তার পরিবারের সদ্যস্যরা কোন রোগে আক্রান্ত। ইতিশ চন্দ্র আগে থেকেই হার্টের রোগী ছিলেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন স্কুলশিক্ষক ইতিশ চন্দ্র দাস। তিনি সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের খোলাহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই এলাকার প্রাণবন্ধু চন্দ্র দাসের ছেলে।
ইতিশ খোলাহাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ইতিশ চন্দ্র দাসের শরীর জুড়ে পক্স (গুটি বসন্ত) দেখা। পরে চারদিন পর বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিনগত গভীর রাতে তিনি মারা যান।
ওই শিক্ষকের এমন মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিক ঘটনার পর ওই এলাকায় নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
নিহতের স্ত্রী অর্চনা রানী জানান, বৃহস্পতিবারের দিকে প্রথমে তার (ইতিশ চন্দ্রের) শরীরে গুটি বসন্ত দেখা দেয়। চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হলেও পরে আবার জটিল আকার ধারণ করে। শেষে গেল রাতে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, তাদের বড় ছেলে প্রিমল দাস বুধবার ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে সেও একই রোগে আক্রান্ত হয়। এছাড়া ছোট ছেলে অমীত দাসও আক্রান্ত।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. রফিকউজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণ করছি সেটি চিকেন পক্স। এটি একটি ছোঁয়াছে রোগ। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।








