সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬ || ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৪৭, ২ নভেম্বর ২০২৬

মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের ঢল

মধুমতী নদীতে নৌকাবাইচ ঘিরে লাখো মানুষের ঢল
সংগৃহীত

বৈঠার ছন্দ, কাঁসার ঘণ্টার ধ্বনি আর মাঝি-মাল্লাদের হেঁইও রবে মুখরিত মধুমতী নদী। নদীর বুকে রঙিন নৌকার প্রতিযোগিতা, আর দুই তীরে লাখো মানুষের উচ্ছ্বাস। নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে ঘিরে উৎসবের নগরে পরিণত হয়েছিল মাগুরার মহম্মদপুর। রোববার (১ নভেম্বর) ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মধুমতী নদীর দুই পাড়ে নামে দর্শনার্থীদের ঢল।

মাগুরা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নানা বয়সী মানুষ নৌকাবাইচ উপভোগ করতে আসেন। দর্শনার্থীদের পদচারণায় নদীর দুই তীর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা দেখতে।

মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে নৌকাবাইচের দুই দিন আগে থেকেই মধুমতী নদীর দুই পাড়ে বসে গ্রামীণ মেলা। মেলায় গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, খাবার, মিষ্টি, শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসে। মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

বিকেলে নৌকাবাইচ শুরু হলে নদীর বুকে তৈরি হয় প্রতিযোগিতার উত্তেজনা। মাঝি-মাল্লাদের সমন্বিত বৈঠার টানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলে রংবেরঙের নৌকাগুলো। কাঁসার ঘণ্টার শব্দ আর মাঝিদের হেঁইও রবে মুখর হয়ে ওঠে নদীর দুই পাড়। এক নৌকাকে পেছনে ফেলে অন্য নৌকার এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দর্শকদের উল্লাস ও করতালিতে আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

আয়োজকেরা জানান, মহম্মদপুরের মধুমতী নদীর এ নৌকাবাইচ দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বহন করছে। প্রতিবছর এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয় জনপদে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। নদীকেন্দ্রিক বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি এ আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য  নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম), জেলা পরিষদের প্রশাসক আলী আহমেদ, মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী, মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম হোসেন প্রমুখ। 

দূরদূরান্ত থেকে নৌকাবাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থী হুসাইন আলী বলেন, নৌকাবাইচ দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এখানে এসে অনেক আনন্দ উপভোগ করছি। এত মানুষের সমাগম দেখে সত্যিই ভালো লাগছে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খুলনার কয়রা থেকে এসেছেন আলী আকবর। তিনি বলেন, আমি প্রতিবছরই এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসি। গত বছরগুলোতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছি। মহম্মদপুরের মধুমতী নদীর নৌকাবাইচ দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এবারও প্রথম পুরস্কার জয়ের আশা নিয়ে এসেছি।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসেছেন সাগরিকা। তিনি বলেন, প্রতিবছরই এ মেলা হয়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। নৌকাবাইচ ও মেলা দুটোই খুব উপভোগ করছি। কেনাকাটাও করছি। আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিবছরই যেন এ আয়োজন অব্যাহত থাকে।

নৌকাবাইচ ও মেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা বলেন, অনেক দিন পর মহম্মদপুরবাসী এমন আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করছেন। নদীর দুই পাড়ে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং তাদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখে ভালো লাগছে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী ও মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য নিতাই রায় চৌধুরী।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

সোমবার   ০২ নভেম্বর ২০২৬ || ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম