সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ || ২২ চৈত্র ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৩৯, ৫ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে বাড়িতে ঢুকে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যা

বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে বাড়িতে ঢুকে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যা
সংগৃহীত

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঢুকে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহনাজ বেগমকে (৭০) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, মা ও ছেলে পরিচয়ে দুজন বাড়িতে ঢুকে শাহনাজ বেগমের গলা কেটে পালিয়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন নিহত শাহনাজ বেগমের পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার ও তাঁর ছোট মেয়ে। নিহত ব্যক্তির একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান (সজীব) তখন পার্শ্ববর্তী দাড়িদহ বাজারে তাঁর ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুমে ছিলেন।

পুত্রবধূ সৈয়দা জিন্নাত আকতার (রিয়া) প্রথম আলোকে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘সাঁঝের বেলা বাড়িতে চল্লিশোর্ধ্ব একজন নারী আসেন। ওই নারী আমার শাশুড়ির পূর্ব পরিচিত। কুশল বিনিময়ের পর শাশুড়ির সঙ্গে তিনি গল্পে মেতে ওঠেন। গল্পে গল্পে সখ্য জমিয়ে তোলেন। এরই মাঝে ওই নারীর ছেলে পরিচয়ে বাড়িতে আসেন ২৩-২৪ বছর বয়সী এক তরুণ। মা-ছেলেকে আপ্যায়ন করতে বিস্কুট-চানাচুর খেতে দেওয়া হয়। তাঁরা দুজন শাশুড়ির ঘরে ছিলেন।’

শাশুড়ি ও দুই অতিথিকে রেখে মাগরিবের নামাজ পড়তে নিজ ঘরে যান জিন্নাত আকতার। নামাজ শেষে তিনি হঠাৎ শাশুড়ির চিৎকার শুনতে পান। জিন্নাত আকতার বলেন, ‘বিপদ আঁচ করতে পেরে ‘আম্মা’ বলে চিৎকার দিই। দ্রুত ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু বাইরে থেকে ঘরের দরজা আটকানো ছিল। আতঙ্কে চিৎকার দিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি শুরু করি। পাশের বাড়ির একজন পৌঁছার আগেই হুড়মুড়িয়ে বাড়ি থেকে কারও বের হয়ে যাওয়ার পায়ের শব্দ শুনতে পাই। আমার জা (প্রতিবেশী নারী) বাড়িতে ঢুকে দেখেন, আমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো নেই, আগেই খুলে দেওয়া হয়েছে। এরপর জাকে সঙ্গে নিয়ে শাশুড়ির ঘরে গিয়ে দেখি, ঘরের মেঝেতে রক্তমাখা লাশ পড়ে আছে। ওড়না দিয়ে মুখ বাঁধা। ওই নারী এবং তাঁর ছেলে পরিচয়ে আসা তরুণ ঘরে নেই। বাড়িতে দুজন আগন্তুক আসা থেকে শুরু করে নাশতা খেয়ে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া—সবকিছুই ঘটেছে আনুমানিক ৩০ মিনিটের মধ্যে।’

নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তাঁরা কিছু বুঝতে পারছেন না। ঘরে থাকা টাকাপয়সা, স্বর্ণালঙ্কার বা কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তির ছেলে মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা আবদুল খালেকও রাকাবের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন। কারও সঙ্গে তাঁদের কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী পুত্রবধূর বর্ণনা নির্ভরযোগ্য কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্ণনা অনুযায়ী আগন্তুক নারী ও ছেলে পরিচয়ে আসা তরুণকে শনাক্ত করা সম্ভব হলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হতে পারে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট