বুধবার   ২১ জানুয়ারি ২০২৬ || ৭ মাঘ ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ০৯:১৩, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

২১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াত, ছয় আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন

২১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জামায়াত, ছয় আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন
সংগৃহীত

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে কয়েক দফা বৈঠক, দেনদরবার ও অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের পর আসন বণ্টনে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য জোট। সমঝোতা হয়েছে ২৯৪ আসনে। আর ৬টি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

গত ১৫ জানুয়ারি রাতে জোটের পক্ষ থেকে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। সে সময় ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন ফাঁকা রাখা হয়। তবে ইসলামী আন্দোলন পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ২৫৯ আসনে হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। এ অবস্থায় দলটির জন্য ফাঁকা রাখা ৪৭টি আসনের মধ্যে আরো ৩৬টি নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। যার মাধ্যমে মোট ২১৫ আসনে নির্বাচন করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ফাঁকা রাখা বাকি আসনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি পেয়েছে আরও একটি আসন, মোট তিনটি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আগের ২০টিসহ নতুন করে পেয়েছে ৩টি, মোট ২৩টিতে জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে দলটি। তবে আরও ছয়টি আসনেও উন্মুক্ত নির্বাচন করবে দলটি, যেখানে শরিক দলের প্রার্থীও থাকবে।

খেলাফত মজলিস সমঝোতায় নতুন করে দুটিসহ ১২টি আসনে নির্বাচন করবে। এর বাইরে আগের সমঝোতার ভিত্তিতেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৯, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) ৩, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২ ও বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টি ২টি আসনে নির্বাচন করবে। 

তবে আসন সমঝোতার ১০ দলীয় জোটে শেষ পর্যন্ত আসন পায়নি জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। আসন না পেলেও জোটের সঙ্গে কাজ করবে দল দুটি।

১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক‍্য জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াত নিয়েছে ২১৫টি আসন।

বিজ্ঞাপন

সমঝোতা অনুযায়ী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাচ্ছে ২৯টি আসন। দলটি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় আসনে নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের কিছু আসনে এনসিপিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

দলটির তথ্য মতে, উন্মুক্ত থাকা মৌলভীবাজার-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে নির্বাচন করবে দলটি। বাকি ২৯ আসনে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এনসিপি প্রার্থীরা লড়বে।

dhakapost

আসনগুলো হলো : পঞ্চগড়-১ (পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী), দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা), রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা), কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট উপজেলা), নাটোর-৩ (সিংড়া উপজেলা), সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর উপজেলা), পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া উপজেলা), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল উপজেলা), ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা উপজেলা), মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা), ঢাকা-৮ (মতিঝিল, রমনা, শাহবাগ, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা), ঢাকা-৯ (খিলগাঁও, সবুজবাগ ও মুগদা থানা), ঢাকা-১১ (বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা থানা), ঢাকা-১৮ (উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, তুরাগ ও খিলক্ষেত থানা), ঢাকা-১৯ (সাভার), ঢাকা-২০ (ধামরাই), গাজীপুর-২ (সিটি কর্পোরেশনের একাংশ, সেনানিবাস), নরসিংদী-২ (পলাশ উপজেলা ও সদরের আংশিক), ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলা), কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার উপজেলা), নোয়াখালী-২ (সেনবাগ উপজেলা ও সোনাইমুড়ী উপজেলার আংশিক), নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া উপজেলা), লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ উপজেলা), চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ এলাকা), বান্দরবান (বান্দরবান পার্বত্য জেলা) এস এম সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও বিজয়নগর উপজেলা), নেত্রকোণা ২ (সদর-বারহাট্টা) ফাহিম পাঠান, মৌলভীবাজার ৪ (উন্মুক্ত আসন), রাজবাড়ি-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী)। 

তবে এনসিপি নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার আংশিক) আসনে জোট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করলেও সেখানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী থাকবে বলে জানা গেছে।

২৯ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

জোট সঙ্গী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৯টি সংসদীয় আসনে রিকশা প্রতীকের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যদিও জোটের সমঝোতায় দলটি পেয়েছে ২৩টি আসন। দলটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

দলটির প্রচার সম্পাদক ও মিডিয়া সমন্বয়ক হাসান জুনাইদ জানান, দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যর সমঝোতার আলাপের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিকশা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোট ২৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে ২৩টি সংসদীয় আসনে “দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য”-এর আওতায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

অপর ৬টি আসনের মধ্যে সুনামগঞ্জ–৩ ও কিশোরগঞ্জ–১ আসনে খেলাফত মজলিস, মৌলভীবাজার–৪ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এনসিপি, ফেনী–২ আসনে এবি পার্টি এবং ফরিদপুর–৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে উন্মুক্ত ভিত্তিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা রিকশা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর জোটের আসন বণ্টন কাঠামোর সঙ্গে একমত হতে না পেরে আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি ইতোমধ্যে স্বতন্ত্রভাবে ২৫৯ আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে।

dhakapost

দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাজনীতির নানা সমীকরণ ও আদর্শের বহুমাত্রিক বোঝাপড়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৯ আসনে একক নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাকি আসনের ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত হলো, ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে আসনভিত্তিক সৎ, যোগ্য ও জনতার প্রতি দায়বদ্ধ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে। এরইমধ্যে মামুনুল হকের আসনে সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রচারণা শুরু হলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হাতপাখা যেসব আসনে থাকবে না, সেই আসনগুলোর সমর্থন ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের নির্বাচনী আসনে (বরিশাল-৬) কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে পারস্পরিক সৌজন্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিমের নির্বাচনী (বরিশাল-৬) আসনে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোট। ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য গঠনে ভূমিকার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক লক্ষ্য সামনে রেখেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচনে সরকারবিরোধী ভোট যাতে বিভক্ত না হয়, সেজন্যই এই আসন সমঝোতা অপরিহার্য ছিল। তারা আশা করছেন, সমঝোতার ফলে মাঠে জোটের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

বুধবারের মধ্যে আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা

চূড়ান্ত আসন সমঝোতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কয়েকটি আসনে উন্মুক্ত নির্বাচন হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী মোট ২১০+ আসনে নির্বাচন করবে। বুধবারের মধ্যেই চূড়ান্ত বিষয়টি ঘোষণা করা হবে।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মোটামুটি সব চূড়ান্ত। কোথায় কোন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলেন সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর জোটের আসনগুলো ঘোষণা করা হবে।

ঐক্যের বৃহত্তর স্বার্থে হাসিমুখে পঞ্চগড়ের ২টি আসনে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র 
রাশেদ প্রধান। 

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, পঞ্চগড়-১ আসনে স্নেহাশিস ছোট ভাই এনসিপি নেতা সারজিস ভাইকে জয়যুক্ত করতে হবে। পঞ্চগড়-২ আসনে শ্রদ্ধেয় বড়ো ভাই জামায়াত নেতা সুফি ভাইকে জয়যুক্ত করতে হবে। গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করতে হবে। পঞ্চগড়-১ : শাপলা কলি, পঞ্চগড়-২ : দাঁড়িপাল্লা। গণভোট : হ্যাঁ। বিজয়ের পথে যাত্রা শুরু, জীবন অথবা মৃত্যু।

জেইউ/জেডএস

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

সর্বশেষ