শাপলা গণহত্যার প্রতিকারে সেক্যুলার সংবিধান বাতিল করতে হবে
শাপলা চত্বর গণহত্যার প্রতিকারে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান বাতিল করে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
মঙ্গলবার (৫ মে) পুরানা পল্টনে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শাপলা গণহত্যার শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ২০১১ সালে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে যে ইসলাম বিদ্বেষ পুনর্বহাল করা হয়েছে, তার অনিবার্য পরিণতিই ছিল ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর গণহত্যা। নিরীহ আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় ওই নৃশংসতা চালানো সম্ভব হয়েছে কারণ বিদ্যমান ব্যবস্থাটি ইসলাম ও এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মূল্যবোধের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আছে।
তারা আরও বলেন, শাপলা গণহত্যার প্রকৃত বিচার ও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে কেবল দায়ীদের বিচার করলেই হবে না, বরং যে আদর্শিক ভিত্তি থেকে এই অপরাধ করার সাহস পেয়েছে তা উপড়ে ফেলতে হবে। তাই শাপলা চত্বরের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি না করতে চাইলে এবং দেশে ইনসাফ কায়েম করতে চাইলে সবার আগে ইসলাম বিদ্বেষী ও বিতর্কিত সেক্যুলার সংবিধান বাতিল করতে হবে। একটি গণমুখী ও ইসলামের চেতনার প্রতিফলন ঘটে এমন নতুন রাষ্ট্রকাঠামো গঠনই আজ সময়ের দাবি।
খোমেনী ইহসান বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ভয়াবহ গণহত্যা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। বরং ২০০৮ সালে পাতানো নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হওয়ার পর থেকে ফ্যাসিবাদ কায়েমের মতলবে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের চূড়ান্ত ধাপে এসে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যা ঘটানো হয়।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় বসার পর একদিকে পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা চালিয়ে দেশকে অরক্ষিত করে ফেলা হয়। পাশাপাশি ব্লগ ও ফেসবুকে চরম ইসলাম বিদ্বেষী প্রচারণা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে বাতিল করে ধর্মনিরপেক্ষতাকে মূলনীতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের আইন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সাংবিধানিক সেক্যুলার ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হয়। কিন্তু ২০১৩ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি ও জামায়াত জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে এবং হেফাজতে ইসলাম আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসকে পুনর্বহালসহ ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামলে হাসিনার ভীত কেঁপে ওঠে। তখন হেফাজতকে সহজ টার্গেট হিসেবে গণহত্যা করে সবাইকে চুপ করিয়ে দেওয়ার মতলবে শাপলায় গণহত্যা ঘটানো হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পুরোপুরি ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়। পরপর তিনটি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দিনে দুপুরে ডাকাতি হয়। দেশজুড়ে গুম-খুন, ব্যাংক লুট ও বিদেশে অর্থপাচারের মহোৎসব চলে।
খোমেনী ইহসান আরও বলেন, ঘটনা পরম্পরায় প্রমাণিত শাপলা চত্বর গণহত্যা কোনো সাধারণ গণহত্যা ছিল না। বরং এটি সেক্যুলার ফ্যাসিবাদ কায়েমের অবৈধ অভ্যুত্থান ছিল। তাই এ গণহত্যার পর থেকে সেক্যুলার সংবিধান বাংলাদেশের জনগণের ম্যান্ডেট হারিয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী রাজনীতি চিরতরে অবৈধ হয়ে গেছে। আর জুলাই গণহত্যার মধ্য দিয়ে এ সংবিধানের ম্যান্ডেটহীনতা ও ফ্যাসিবাদের অবৈধতা অবিসংবাদিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এখন জনগণ অপেক্ষা করছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার কখন নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও ফ্যাসিবাদ নিষিদ্ধের আইন করবে।
দেশে অবিলম্বে ধর্ম অবমাননা বিরোধী ব্লাসফেমি আইন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের পরেও দেশে অব্যাহতভাবে ইসলাম অবমাননার ঘটনা ঘটছে। এর বিরুদ্ধে মুসলমানেরা প্রতিবাদ করলে অপরাধীদের ধরে বলা হয়, ফেসবুক হ্যাক করা হয়েছে। এতে জনমনে ক্ষোভ কমার বদলে বাড়ছে। অথচ ব্লাসফেমি আইন করলে ধর্ম অবমাননার দুর্বৃত্তপনা বন্ধ হয়ে যেত।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট









.webp)







