শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬ || ২২ ফাল্গুন ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১১:১৬, ৭ মার্চ ২০২৬

ভারত-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল নিয়ে স্টেইন-ডি ভিলিয়ার্সের ভবিষ্যদ্বাণী

ভারত-নিউজিল্যান্ড ফাইনাল নিয়ে স্টেইন-ডি ভিলিয়ার্সের ভবিষ্যদ্বাণী
সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুটি সেমিফাইনালে সম্পন্ন ভিন্ন দ্বৈরথের দেখা মিলেছে। দক্ষিণ আফ্রিকাকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েই ফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে, ভারত ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ছিল রোমাঞ্চকর। যে লড়াইয়ে ভারতের দেওয়া ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৭ রানে হেরেছে ইংলিশরা। এবার মহারণী লড়াইয়ের অপেক্ষা। আহমেদাবাদে আগামীকাল (রোববার) ফাইনালে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে। 

যেকোনো বড় ম্যাচের আগে তারকা ক্রিকেটারদের ভবিষ্যদ্বাণী ও নানা সমীকরণ দাঁড় করাতে দেখা যায়। ফাইনাল হলে তো কথাই নেই! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরে ভারত-নিউজিল্যান্ডের মধ্যে কারা চ্যাম্পিয়ন হবে, সেই আলোচনা ও যুক্তি শুরু হয়েছে। সেই দলে যোগ দিয়ে ফাইনাল নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক দুই তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স ও ডেল স্টেইন। যেখানে তারা উভয়েই ভারত চ্যাম্পিয়ন হবে বলে যুক্তি দিয়েছেন।

সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স তার ইউটিউব চ্যানেলের ‘৩৬০লাইভ’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানান স্টেইনকে। উভয়ের আলোচনার একপর্যায়ে স্টেইন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে সবাই দক্ষিণ আফ্রিকাকে চোকার্স হিসেবে ডাকে, কিন্তু আমি এটি বলব (নিউজিল্যান্ডের জন্য)। নিউজিল্যান্ড খুব বেশি বিশ্বকাপ জেতেনি এবং তারা আমাদের চেয়ে বেশি ফাইনাল খেলেছে। নিউজিল্যান্ড দয়া করে এবার জেতো, নয়তো আমি আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ডটি (চোকার্স তকমা) তোমাদের হাতে হস্তান্তর করব। সেজন্য চোকটা ভারতের পক্ষ থেকে আসতে হবে। তবে আমার মতে এটি অসম্ভব।’

‘আমি আসলেই চাই তারা (নিউজিল্যান্ড) জিতুক, কিন্তু আমি কি ধরে নেব তারা ভারতকে হারাবে? না’, আরও যোগ করেন সাবেক এই প্রোটিয়া গতিতারকা। নিউজিল্যান্ড এখন পর্যন্ত দুটি আইসিসি ইভেন্টের ফাইনালে জিতেছে। ২০০০ সালে নকআউট ট্রফি (বর্তমানে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) এবং ২০২১ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জয় পায়, দু’বারই তাদের প্রতিপক্ষ ছিল ভারত।

উভয়ের আলোচনায় ডি ভিলিয়ার্স ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। যেখানে সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের কাঁদিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। সে কারণে কিউইদের ‘ঘৃণা’ করেন বলেও উল্লেখ করেন ডি ভিলিয়ার্স। তিনি বলেন, ‘আমি ওই কারণে নিউজিল্যান্ডকে ঘৃণা করি। ২০১৫ ফাইনালে তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারত না। এই কথা শুনে মানুষ হয়তো আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের হারানোর মতো দল ছিল কেবল দক্ষিণ আফ্রিকা। এখন আমরা আবারও নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে দেখতে পাচ্ছি, তারা ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই খেলবে। খেলার দৃষ্টিকোণ থেকে নিউজিল্যান্ডের জন্য অনেক সম্মান আছে। তবে যদি তারা সত্যিই বিশ্বকাপ জিতে নেয়, আমাদের দুজনকে হত্যা করা হবে ডেল (হাসি)।’

আলোচনার শেষদিকে ডি ভিলিয়ার্স পুনরায় স্পষ্টভাবে জানতে চান– ‘ফাইনালে কে জিতবে, ভারত নাকি নিউজিল্যান্ড?’ জবাবে স্টেইন বলেন, ‘মস্তিষ্ক বলছে ভারত জিতবে, আর হৃদয় বলছে নিউজিল্যান্ড। এজন্য ভারতীয় সমর্থকদের কাছে আমি দুঃখিত। আমি চাই নিউজিল্যান্ড জিতুক, তারা অনেক ফাইনাল খেলেছে। হয়তো আমি ভারতের জন্য টাকা খরচ করব (বাজি), তবে আশা করব নিউজিল্যান্ডই জিতুক, এজন্য টাকা হারাতেও রাজি।’ এরপর ডি ভিলিয়ার্সও তার চাওয়া জানিয়ে বলেন, ‘আমি মস্তিষ্ক এবং হৃদয় দিয়ে চাই ভারত জিতুক। নিউজিল্যান্ডের দারুণ কিছু সতীর্থের সঙ্গে খেলেছি, তারাও বিশ্বকাপ জয় দেখতে চাইবে। তবে আগে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতুক, তারপর নিউজিল্যান্ড।’ 

২০১৫ বিশ্বকাপের মতো এবারও সেমিতে কিউইদের কাছে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৭০ রানের লক্ষ্য দেওয়ার পরও এইডেন মার্করামের দল কোনো পাত্তাই পায়নি। ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে মাত্র ১২.৫ ওভারে ৯ উইকেট হাতে রেখেই জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ভারতের বিপক্ষে আহমেদাবাদে তারা কেমন দ্বৈরথ উপহার দেয় এখন সেটাই দেখার পালা।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ