জামিনের বিরোধিতা করায় আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশকে মারধর
রাজবাড়ীতে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আসামির জামিনের বিরোধিতা করায় আদালত প্রাঙ্গণেই হামলার শিকার হয়েছেন কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর (সিএসআই) মোহাম্মদ ইস্রাফিল হাওলাদার। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে বিচারকের কাছে জামিন না দেওয়ার আবেদন জানানোর পর আসামির সমর্থকেরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তৃতীয় তলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সুপারকে অবহিত করে লিখিত একটি পত্র দিয়েছেন কোর্টের ওই সিএসআই ইস্রাফিল হাওলাদার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের ওপর হামলার মামলায় এক আসামির জামিন শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে কোর্টে দায়িত্বরত সাব-ইন্সপেক্টর (সিএসআই) মোহাম্মদ ইস্রাফিল হাওলাদার জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত প্রাঙ্গণে আসামির সমর্থকদের সঙ্গে দায়িত্বরত ওই পুলিশ সদস্যদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন সমর্থক কোর্টে দায়িত্ব পালনরত সাব-ইন্সপেক্টরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আদালত এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। কোর্টে দায়িত্বরত সাব-ইন্সপেক্টর ইস্রাফিল হাওলাদার ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত দিয়েছেন।
লিখিত পত্রে তিনি বলেন, আমি এসআই মোহাম্মদ ইস্রাফিল হাওলাদার, বর্তমানে সদর কোর্ট, রাজবাড়ীতে সিএসআই (কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর) হিসেবে কর্মরত আছি। ৯ মে দুপুর ১২টায় রাজবাড়ী থানার বড় মসজিদের সামনে আমাদের পুলিশের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে চরলক্ষ্মীপুর এলাকার মো. আশরাফ গাজীর ছেলে মো. রানার (৩৩) ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের লুকিং গ্লাসের সঙ্গে সামন্য ঘষা লাগে। রানা পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সচালক কনস্টেবল বকুল চৌধুরীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তখন ওই কনস্টেবল কিছু না বলে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে লাশ কাটা ঘরের উদ্দেশ্যে চলে যায়। একপর্যায়ে রানা রাজবাড়ী সদর থানার ১নং রেলগেট পৌঁছানো মাত্র দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের গতিরোধ করে গাড়ি থেকে কনস্টেবলকে টেনে হেছড়া নামিয়ে এলোপাথারী কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও ট্রাফিক ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা রানাকে আটক করে রাজবাড়ী থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে। এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক পুলিশ কনস্টেবল বকুল চৌধুরী রানার বিরুদ্ধে বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে রাজবাড়ী সদর থানায় পেনাল কোডের ৩৪১/৩৩২/৩৫৩ ধারায় মামলা হয়।
মামলার তদন্তকারী অফিসার আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিনের প্রার্থনা করে পিটিশন দাখিল করেন।পরে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে রাজবাড়ী সদর ১ম আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান আসামির জামিন শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের সিএসআই হিসেবে আমি জামিনের বিরোধিতা করি। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ শেষে আসামির জামিন না মঞ্জুর করে আজ ১০ মে তারিখে পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেন। শুনানি শেষে আমি আদালত কক্ষ থেকে আদালতের বারান্দায় বের হওয়া মাত্রই আসামি পক্ষের ১৫/২০ জন সমর্থক আমার ওপর চড়াও হয়। তারা আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে এবং এলোপাথারি কিল-ঘুষি ও লাথি মারে। পরে আদালতে উপস্থিত লোকজন আমাকে আসামি পক্ষের সমর্থকদের হাত থেকে রক্ষা করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারকের খাস কামরায় নিয়ে যায়। আমি বিষয়টি তাৎক্ষনিক সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ও আমার ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে অবহিত করি।
এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, আদালতে সিএসআই এর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে অ্যাম্বুলেন্স চালক পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলায় রানা নামের এক যুবককে আটক করে তার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর(সিএসআই) মোহাম্মদ ইস্রাফিল হাওলাদারের বলেন, আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশ সুপার স্যারকে অবহিত করেছি। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করিনি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

.webp)





.webp)

