কবি নজরুল ছিলেন সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ময়মনসিংহের মাটিতে দাঁড়িয়ে নজরুল সম্পর্কে কথা বলা দুঃসাহসের বিষয়। ময়মনসিংহের মাটিতে বহু প্রথিতযশা সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদের জন্ম হয়েছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন আবুল মনসুর আহমেদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, চন্দ্রাবতী, হুমায়ুন আহমেদ, হেলাল হাফিজ, জগদীশচন্দ্র বসু ও ভাষাসৈনিক আব্দুল জব্বার। কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন তাদের মধ্যেও উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তিনি বলেন, নজরুল ছিলেন সাম্যের কবি, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি, বিরহের কবি, ধনী-গরিব খেটে খাওয়া ভুখা মানুষের কবি, বিদ্রোহী কবি।
রোববার (২৪ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুল ছিলেন সাহিত্য গগনের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাকে এবং যার সাহিত্যকর্মকে এই উপমহাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পিএইচডি ডিগ্রির থিসিসের বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। নজরুল ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে স্কুলে ভর্তি হন। ফার্সি ভাষায় তিনি ৯৮ নম্বর পেয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম নিজেই একটি ইতিহাস, একটি প্রতিষ্ঠান।
তিনি আরও বলেন, অসাম্প্রদায়িক ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে নজরুল রাজনীতিতেও অংশগ্রহণ করেন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।” তাই তিনি বলেছেন, “যারা গুণ্ডা, ভণ্ড, তারাই ধর্মের আবরণে রাজনীতি করে।” সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে ছিলেন কবি। যারা নজরুল চর্চা করেছেন, তারাই ভালো বলতে পারবেন নজরুলের গভীরতা ঠিক কতটা। বাংলাদেশের মানুষ নজরুলকে ভালোবেসেছে, তাই এদেশের মানুষ নজরুলকে ভুলতে পারবে না।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানমালায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকসহ ত্রিশাল ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত অতিথিরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট









.webp)
