বৃহস্পতিবার   ০৫ মার্চ ২০২৬ || ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১০:৫৭, ৫ মার্চ ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে আজ অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন সেই ভুক্তভোগী

ট্রাইব্যুনালে আজ অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন সেই ভুক্তভোগী
সংগৃহীত

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন ভুক্তভোগী ইকবাল চৌধুরী। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জন আসামি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।

গত ২ মার্চ ট্রাইব্যুনালে নিজের গুমজীবনের বীভৎস বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৭১ বছর বয়সী ইকবাল চৌধুরী। একপর্যায়ে অসুস্থতা বোধ করায় প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাক্ষ্যগ্রহণ অসমাপ্ত রেখে আজ পর্যন্ত মূলতবি করেন ট্রাইব্যুনাল।

সেদিন দেওয়া জবানবন্দিতে ইকবাল চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালের ৭ মে রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে যান সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি। নিজেদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা একটি মাইক্রোবাসে তোলেন। গাড়িতে ওঠানোর পর তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়, মাথায় জমটুপি পরিয়ে হাতে হাতকড়া লাগানো হয়। তাকে রাখা কক্ষটির পরিবেশে নিজেকে জীবন্ত কবরে বন্দি মনে করেছিলেন। অনিশ্চয়তায় দিন কাটাতে কাটাতে তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকেন।

এ মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন তিনজন। তারা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

পলাতক ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনই বিভিন্ন সময়ে ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা হলেন- লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।

এছাড়া বাকি আসামিরা হলেন- শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মখছুরুল হক।

গুমের এ মামলায় গত বছরের ৮ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ১৮ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

সর্বশেষ