ভোলায় আটা-রুটির কারখানায় মিলল ৬ হাজার লিটার ডিজেল
ভোলা বিসিক শিল্প নগরীতে অবৈধভাবে মজুতের দায়ে দুটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দসহ দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। জব্দকৃত ডিজেলের মধ্যে রয়েছে খান ফ্লওয়ার মিলের (জেকে ট্রেডার্স) ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার ও তৃষ্ণা বেকারির ২ হাজার লিটার।
বুধবার (৩১ মার্চ) দিনগত রাত আনুমানিক ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী সদর উপজেলার খেয়াঘাট সড়কে অবস্থিত বিসিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ভোলা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ আহমেদ বুলবুল।
পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত আটা-ময়দা তৈরির খান ফ্লওয়ার মিল তাদের কারখানায় দুটি খালি পানির ট্যাংক ও ড্রামের ভেতরে ৩ হাজার ৯৭৪ লিটার জ্বালানি তেল মজুত করে রাখে। গোয়েন্দা সংস্থার এমন তথ্যের ভিক্তিতে প্রথমে কারখানাটি অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরবর্তীতে বিসিকের মধ্যে থাকা খাদ্য উৎপাদনকারী আরেক প্রতিষ্ঠান তৃষ্ণা বেকারিতে অভিযান পরিচালনাকালে তাদের একাধিক ড্রামের মধ্য থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
অভিযানে খান ফ্লওয়ারের মালিক জামাল খানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড, তৃষ্ণা বেকারির মালিক মো. জুয়েলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ডসহ জব্দকৃত ডিজেল বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে ওই দুই কারখানা মালিক এসব তেল মজুদ রাখার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি ভ্রাম্যমাণ আদালতকে।
এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে খান ফ্লওয়ার মিলের কর্মীরা হট্টগোল সৃষ্টি করে এবং বিসিকের রাস্তায় বালুর বস্তা ও ইট ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের গাড়ি অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ আহমেদ বুলবুল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিসিক শিল্প নগরীর দুটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এসব ডিজেল জব্দ করেছি। কারখানা মালিকরা তেল মজুদের জন্য তাদের কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে সাংবাদিককে হত্যার হুমকির ঘটনায় এদিন মধ্যরাতে ভোলা সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক উৎপল দেবনাথ। তিনি বলেন, বিসিকের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আমাকে হুমকি দিয়েছেন জামাল খান। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তবে অভিযানের ঘটনায় খান ফ্লওয়ার মিলের মালিক জামাল খান বলেন, আমার কারখানার পণ্য আনা নেওয়ার জন্য ১০টি ট্রাকে দুটি ট্রলার চলাচল করে এবং কারখানায় জেনারেটর রয়েছে। চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে আমার কারখানা চালানো জন্য গত এক সপ্তাহ আগে জ্বালানি তেলের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলাম এবং পরবর্তীতে এনডিসির কথা মতো ইলিশা এগ্রো থেকে গতকাল তেল সংগ্রহ করেছি এবং বলা হয়েছে অন্যদেরকেও তেল সরবরাহ করতে, করেছি। তাহলে আমার কারখানায় অভিযান চালানো হল কেন? চোরাই বা অবৈধভাবে তো তেল সংগ্রহ করেনি। এছাড়া প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মামলা দিয়ে হয়রানি ও হত্যার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিককে হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্ভেগ ও প্রতিবাদসহ প্রশাসনের কাছে হুমকিদাতাকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট













