বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬ || ৬ কার্তিক ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৩:২৭, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে কী আছে

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে কনস্যুলেটের চিঠিতে কী আছে
সংগৃহীত

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। এমনকি তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রমকল্যাণ উইং থেকে ১৮ অক্টোবর প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

১৪ অক্টোবর সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে দেশটির কয়েকটি গণমাধ্যমের খবর থেকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানা যায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার। চিঠিতে বলা হয়, সৌদির গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলে এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা।

এই দুই ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য সৌদির কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করেনি বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধের ভিত্তি গত ৩০ সেপ্টেম্বর তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় নজরুল ও সুইটির নাম পাওয়া যায়। তবে তালিকায় তাঁদের শাস্তির বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা সৌদির আল মাজাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তালিকার তথ্য অনুযায়ী, নজরুলকে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয়। পরদিন সুইটিকে ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয়। নজরুল ছিলেন জেদ্দা সংশোধনাগারে। সুইটি ছিলেন জেদ্দা নারী কারাগারে। তালিকায় তাঁদের কারও সাজার বিষয়টি উল্লেখ ছিল না বলে চিঠিতে বলা হয়।

সৌদি আরবে তথ্যপ্রযুক্তি বা ব্যভিচারের অভিযোগে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলে কনস্যুলেটের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের নৈতিকতাসংক্রান্ত মামলায় ৩০৬ জন বাংলাদেশির আটক থাকার তথ্য তালিকায় আছে। তাঁদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষিত হয়েছে। সর্বনিম্ন সাজা এক মাসের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

চিঠিতে কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত সহায়তার জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি, কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। সৌদির কর্তৃপক্ষও এই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা এবং তা কার্যকরের বিষয়ে কিছু জানায়নি।

রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য পেতে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছে কনস্যুলেট। চিঠিতে বলা হয়, রায়ের কপি পাওয়ার পর বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

সূত্র: প্রথম আলো

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

বৃহস্পতিবার   ২২ অক্টোবর ২০২৬ || ৬ কার্তিক ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন

সর্বশেষ

শিরোনাম