সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) খন্দকার আব্দুল হাফিজকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) খন্দকার আব্দুল হাফিজকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সূত্র অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা বিরোধী এক বিপজ্জনক গোপন সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ঘুঁটি হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে যেসব চাঞ্চল্যকর ও দেশবিরোধী তথ্য সামনে এসেছে:
তিনি বিগত পতিত স্বৈরাচারী সরকারের বিতর্কিত নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিকীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিভিন্ন অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন।
আন্তর্জাতিক স্তরেও বিস্তৃত ছিল তার ষড়যন্ত্রের জাল। ইসরাইলের লিকুদ পার্টির বিতর্কিত নেতা মেন্দি সাফাদির ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক প্রতিনিধি শিপন কুমার বসুর সাথে হাফিজের দীর্ঘদিনের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তথ্য পাওয়া গেছে, হাফিজ একাধিকবার গোপনে ভারতে গিয়ে শিপন কুমার বসুর সাথে সরাসরি বৈঠকে মিলিত হন।
পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের অন্যতম দোসর এবং গুম, খুন ও আয়নাঘরের মূল কুশীলব হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলা অপপ্রচারে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নেন। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে “মুক্তি চাই, দিতে হবে” লিখে খুনিদের সাথে সরাসরি সংহতি প্রকাশ করেন।
একদিকে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের সাথে হাত মেলানো ও খুনিদের মুক্তি দাবি, অন্যদিকে চাতুর্যের সাথে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ভবন বঙ্গভবনে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ! অর্থাৎ রাষ্ট্রের ভেতরে ঘাপটি মেরে থেকে অপতৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার এক ভয়ংকর ব্লুপ্রিন্ট ছিল তার।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও তথ্য মিলেছে যে, এই দেশবিরোধী নেটওয়ার্কের সাথে লে. গুলশান আরা এবং লে. কর্নেল দেবাশীষের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাবেক মেজর হাফিজ এবং তার সাথে জড়িত পুরো সিন্ডিকেটকে কঠোর নজরদারির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির মুখোমুখি করা এখন সময়ের দাবি!
.jpg)

