সোমবার   ০৬ এপ্রিল ২০২৬ || ২২ চৈত্র ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১১:৫৬, ৫ এপ্রিল ২০২৬

‘বোর্ড পরিচালকরা চেয়েছিল বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক’

‘বোর্ড পরিচালকরা চেয়েছিল বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলুক’
সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। শেষ পর্যন্ত তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আইসিসি। যা নিয়ে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। এরই মাঝে বিসিবির পরিচালকদের সবাই বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে এবং পুরো প্রস্তুতি নিয়েছিল বলে জানালেন ফাহিম-মিঠুরা। 

বিসিবির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন পরিচালক। তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই সরকারিভাবে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় উল্লেখ করে ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, ‘খেলোয়াড়দের থেকে আপনারা ক্লিয়ার সিগনাল পেয়েছেন। আমি যতটুকু জানি আলোচনা হয়নি। সালাউদ্দিনও (জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন) বলেছে। সেদিন যারা ছিল, ফাহিম (নাজমুল আবেদীন ফাহিম) ভাই বলতে পারবে…তিনি সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে।’

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে আশা ছিল জানিয়ে ফাহিম বলেন, ‘বিশ্বকাপ ঘিরে মুস্তাফিজ ইস্যুর পর আমরা প্রথমে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি অবশ্যই। আমাদের অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা ছিল। সরকার থেকে যখন একটা সিদ্ধান্ত চলে আসে তখন সেটাই ফলো করতে হয়েছে।’

‘আমরা যখন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি, তখন আমার ধারণা ছিল ওদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করব, দর কষাকষি হবে, সরি বলবে। এই ব্যবস্থা করব–সেই ব্যবস্থা করব বলবে। তারপর হয়তো আমরা রাজি হয়ে যাব যাওয়ার জন্য। কিন্তু সে পথে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে আমরা যাব না’, আরও যোগ করেন ফাহিম।

বিসিবির আরেক পরিচালক মোখছেদুল কামাল বাবু জানান, ‘বোর্ড অবশ্যই বিশ্বকাপ খেলার পক্ষে ছিল।’ তর্ক-বিতর্কের সংবাদ সম্মেলনে বোর্ড পরিচালকরা জোর গলায় দাবি করলেন, ‘পরিচালক হিসেবে কেউ বিশ্বকাপ না খেলতে চায়নি। একজনও না। আমরা তাকিয়ে (অপেক্ষায়) ছিলাম।’

সেই কথার সুর টেনে নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘২৩ তারিখে (জানুয়ারি) বিপিএল ফাইনাল হলো। চট্টগ্রামে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটনার কারণে দেরি হয়ে যাওয়ায় সিলেটে অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হলো, তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আসতে হয়। আমরা চাইলেই ২ দিন সময় নিয়ে চট্টগ্রামে খেলা শেষ করতে পারতাম। যে কারণে করিনি সেটা হলো আমাদের বিশ্বকাপে যেতে হবে।’ 

সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগে বিশ্বকাপের জন্য পুরো প্রস্তুতি ছিলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি, ‘হয়তো আমরা ২৮ জানুয়ারি যেতাম খেলার জন্য। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিলাম বিশ্বকাপ খেলতে। সরকার নিরাপদ না বলার পর আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ ছিল না। একপর্যায়ে আমাদের মতামত এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এখনকার সরকার চায় ভারত বা যেকোনো দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকবে। এটা তাই সরকার কী চায় সেটার ব্যাপার। সরকার যা চাইবে আমরা তা অনুসরণ করব। দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গি কী সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট