ওয়াসিম-বোল্টের রেকর্ডে ভাগ বসালেন মুস্তাফিজ, সামনে কেবল স্টার্ক
বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান কী করতে পারেন তা কারও অজানা নয়। কিন্তু যে নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মাঝপথে ছেড়ে আসতে হলো, সেখানেই কি না তার নামা হচ্ছিল না। চোটের কারণে প্রথম দুই ওয়ানডে মিস করা ফিজ অবশ্য গতকাল (বৃহস্পতিবার) তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের একাদশে ফিরলেন দুর্দান্ত ঝলক নিয়ে। তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার। এর মধ্য দিয়ে রেকর্ডও গড়েছেন এই বাংলাদেশি তারকা।
দুই ওয়ানডে শেষে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড ১-১ সমতায় ছিল। ফলে শেষ ম্যাচটি ছিল সিরিজনির্ধারণী লড়াই। যেখানে স্বাগতিক টাইগারদের ৫৫ রানের জয় নিশ্চিতের পথে বড় ভূমিকা রেখেছেন মুস্তাফিজ। কাটার আর স্লোয়ারের মিশেলে একের পর এক পরাস্ত করেছেন কিউই ব্যাটারদের। সিরিজ প্রথমবার মাঠ নেমে ৯ ওভারে ৪৩ রানের বিনিময়ে তিনি ৫ উইকেট শিকার করেছেন। প্রায় সাত বছর পর ওয়ানডেতে আবারও ফাইফারের দেখা পেলেন এই কাটার মাস্টার।
এর আগে মুস্তাফিজ ২০১৯ বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট করে নিয়েছিলেন। একই কীর্তি গড়তে তাকে প্রায় ৭ বছর অপেক্ষা করতে হলো। তবে ষষ্ঠবার ৫ উইকেট শিকারের মধ্য দিয়ে তিনি ভাগ বসালেন পাকিস্তানি কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরাম ও নিউজিল্যান্ড তারকা ট্রেন্ট বোল্টের রেকর্ডে। ওয়ানডের ইতিহাসে বাঁ-হাতি পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ বার করে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড ছিল এই দুজনের। তাদের সমান ষষ্ঠ ফাইফার নিয়ে পাশে বসলেন মুস্তাফিজ। এখন কেবল অস্ট্রেলিয়ান তারকা মিচেল স্টার্ক। তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে ৩০ বছর বয়সী ফিজের।
স্টার্ক বাঁ-হাতি পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯ বার আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়েছেন। সর্বকালের সেরা বোলারদের একজন ওয়াসিম আকরাম ওয়ানডের ৩৫১ ইনিংস বোলিং করেছেন। তারচেয়ে অনেক কম খেলে সমান ৬ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ (১১৮ ইনিংস)। অবশ্য একই কীর্তি গড়তে আরও কম লেগেছে বোল্টের, তিনি ১১৪ ইনিংসে ৬ বার ফাইফার নিয়েছেন।
এদিকে, অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি মুস্তাফিজের দখলে ছিল। এবার সেটিকে তিনি আরও সমৃদ্ধ করলেন। সমান ৪ বার করে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে আব্দুর রাজ্জাক ও সাকিব আল হাসানের। মাত্র ১১ ম্যাচে দু’বার ফাইফার নিয়ে এরপরই নাহিদ রানার অবস্থান। ওয়ানডের ইতিহাসে সবমিলিয়ে সর্বোচ্চ ফাইফারের রেকর্ডটি ওয়াকার ইউনিসের। পাকিস্তানি এই কিংবদন্তি পেসার ২৫৮ ইনিংসে ১৩ বার ৫ উইকেট নিয়েছেন।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কান গ্রেট মুত্তিয়া মুরালিধরন নেন ১০ বার। ৯ বার করে ফাইফারের কীর্তি আছে স্টার্ক, ব্রেট লি এবং শহীদ আফ্রিদির। সেই হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ফাইফারের তালিকায় মুস্তাফিজের অবস্থান অষ্টম।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট


.webp)

.webp)
.webp)











