শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ || ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৫:২১, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

আকাশপথে শক্তিশালী হওয়ার উদ্যোগ

৪৭ উড়োজাহাজের বহর ও নতুন গন্তব্যের মহাপরিকল্পনা

৪৭ উড়োজাহাজের বহর ও নতুন গন্তব্যের মহাপরিকল্পনা
সংগৃহীত

আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আকাশপথে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৪৭-এ উন্নীত করাসহ একগুচ্ছ নতুন রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমানের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, গত কয়েক বছর ধরে হজ ফ্লাইট পরিচালনার সময় নিয়মিত রুটগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যাত্রী সামলাতে গিয়ে অনেক সময় কয়েকটি রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে দিতে হয়, এমনকি দু-একটি রুট সাময়িকভাবে বন্ধও রাখতে হয়। এই সংকট থেকে উত্তরণে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয় বিমান।

এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এয়ারক্রাফট কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শিগগিরই বোয়িংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। 

চুক্তি অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়া শুরু করলে বিমান তাদের রুট সম্প্রসারণের কাজে হাত দেবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে মালদ্বীপের মালে, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বন্ধ থাকা ঢাকা-নারিতা (জাপান) রুটটি এই অর্থবছরেই পুনরায় চালু করা হবে। পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সালে চীনের কুনমিং ও বাহরাইন এবং ২০২৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল রুটে ডানা মেলবে বাংলাদেশ বিমান

মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে মালদ্বীপের মালে, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে / ছবি- সংগৃহীত

বিমানের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে মালদ্বীপের মালে, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে বন্ধ থাকা ঢাকা-নারিতা (জাপান) রুটটি এই অর্থবছরেই পুনরায় চালু করা হবে।

পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সালে চীনের কুনমিং ও বাহরাইন এবং ২০২৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল রুটে ডানা মেলবে বাংলাদেশ বিমান।

নতুন রুট নির্বাচনের ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুনমিং রুটে চীনের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাহরাইন রুটটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার কেন্দ্রিক। সিডনি, সিউল ও জাকার্তা রুটে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী ও উচ্চ আয়ের পর্যটকদের লক্ষ্য করা হয়েছে। এছাড়া, মালে ও ইয়াঙ্গুন রুটে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের এবং নিউইয়র্ক রুটে প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতই হবে আয়ের প্রধান উৎস।

দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। তাই ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করে বিমানকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে হজ মৌসুমের বাড়তি চাপ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত রুটগুলোতেও স্থিতিশীলতা ফিরবে।

টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বহর সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। তাই ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করে বিমানকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে হজ মৌসুমের বাড়তি চাপ সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত রুটগুলোতেও স্থিতিশীলতা ফিরবেবোসরা ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স

নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের ক্ষেত্রে বোয়িং ৭৮৭-৯, ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে / ছবি- সংগৃহীত

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি রুটকে লাভজনক করতে প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও পর্যটন খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের যাত্রীদের চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন গন্তব্যগুলো নির্বাচন করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে এই সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং বাকিগুলো লিজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বৈঠকের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, লিজ প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তৈরি করা বোয়িং ক্রয়ের খসড়া চুক্তিটি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন রয়েছে, যার বিষয়ে আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে এই সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনা হবে এবং বাকিগুলো লিজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে এই সংখ্যা ৪৭টিতে উন্নীত করা হবে / ছবি- সংগৃহীত

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সরকার মোট ১৪টি বোয়িং কেনার পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এর পাশাপাশি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে লিজের মাধ্যমে কিছু উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করে বিমানকে দ্রুত সম্প্রসারণ ও লাভজনক করার চেষ্টা চলছে।

নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের ক্ষেত্রে বোয়িং ৭৮৭-৯, ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স মডেলগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেকোনো নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার আগে রুটভিত্তিক আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ করা হবে। ধাপে ধাপে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

শুক্রবার   ২৪ এপ্রিল ২০২৬ || ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন