ক্রসম্যাচিং ছাড়া ভুল রক্ত দেওয়ায় প্রসূতির মৃত্যু, স্বজনদের বিক্ষোভ
ভোলায় লামিয়া আক্তার নামে ‘ও পজেটিভ’ রক্তের গ্রুপের এক প্রসূতি নারীকে ক্রসম্যাচিং ছাড়াই তার শরীরে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। পরে পুলিশেরর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিক্ষুব্ধ স্বজনদের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারে অভিযুক্ত ডায়াগনস্টিকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় নানা প্রতিবাদী স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেখানকার পরিস্থিতি।
নিহত প্রসূতির নাম লামিয়া আক্তার। তিনি ভোলা সদর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আবহাওয়া অফিস রোডের বাসিন্দা মো. শরীফের স্ত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়, অভিযুক্ত বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি তালাবদ্ধ করে পালিয়েছে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও মালিকপক্ষ। বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন লামিয়ার স্বজনরা এবং তারা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন এছাড়া নানা স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীম বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
লামিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, লামিয়ার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজেটিভ’। গত বুধবার বিকেলে অন্ত:সত্ত্বা অবস্থায় লামিয়া আক্তারকে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টারে ভর্তি করান তারা। পরেরদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি।
জানা যায়, রোগীকে ‘বি পজেটিভ’ রক্ত দিতে হবে। তারা বলেন আমাদের কাছে এক ব্যাগ রক্ত আছে এবং ক্রসম্যাচিং ছাড়াই তারা রোগীর শরীরে ওই রক্ত প্রবেশ করান। লামিয়াকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার কিছুক্ষণ পর সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ডায়াগনস্টিক থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়। স্বজনরা ওই দিন সন্ধ্যায় সেখানে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সন্ধ্যায় লামিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
লামিয়ার ভাসুর মো. রাজিব অভিযোগ করে বলেন, যখন আমাদেরকে বলা হলো যে আপনাদের রোগীর (লামিয়া) রক্ত লাগবে তখন আমরা ‘ও পজেটিভ’ রক্তদাতা ম্যানেজ করেছি। কিন্তু ‘এর মধ্যে ডায়াগনস্টিকের কর্মরতরা আমাদের রোগীকে তাদের কাছে থাকা এক ব্যাগ ‘বি পজেটিভ’ রক্ত দিয়ে দেয়। পরে রোগীর অবস্থা অবনতি দেখে আমাদের সন্দেহ হয় এবং তাদের কাছে রক্তের ক্রস ম্যাচিংয়ের রিপোর্ট চাইলে তারা দেয়নি এবং সেখান থেকে বরিশালে রেফার্ড করে। বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিকেলে নিলে অবস্থার আরও অবনতি হলে আইসিইউতে রাখা হয় এবং সেখানেই লামিয়া মারা যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেলের চিকিৎসকরা বলেছেন লামিয়ার শরীরে অন্য গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা আমাদের বোন হত্যার বিচার চাই। আর যেন কোনো সন্তান মা হারা না হয়। আমার বোন হত্যায় জড়িত চিকিৎসক, নার্স ও মালিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে অবস্থান নিয়েছি।
তবে এ ঘটনার পরপরই বন্ধন হেলথ কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভোলা সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন বলেন, ভুল চিকিৎসা রোগী মৃত্যুর অভিযোগে স্বজনদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে এসেছি। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় স্বজনরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.jpeg)








