নোয়াখালীর হাট মাতাবে ২৫ মণের ‘রাজাবাবু’ ও ২৩ মণের ‘বাহাদুর’
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কোরবানির পশুর হাটে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দুটি বিশালাকৃতির গরু—‘রাজাবাবু’ ও ‘বাহাদুর’। শাহীওয়াল জাতের এই দুই গরুর ওজন যথাক্রমে ২৫ মণ ও ২৩ মণ। জেলার সদর উপজেলার চর উড়িয়া গ্রামের একটি খামারে বেড়ে ওঠা গরু দুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা।
গরু দুটির মালিক নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন। প্রায় ৩৫ বছর ধরে গরু পালনের সঙ্গে জড়িত তিনি। শখের বশে চার বছর আগে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গড়ে তোলেন খামার। এবার তার খামারেই বড় হয়েছে জেলার সবচেয়ে বড় গরু রাজাবাবু।
খামার সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে বাছুর অবস্থায় রাজাবাবুকে কিনে আনেন নিজাম উদ্দিন। দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। বর্তমানে গরুটির ওজন এক হাজার কেজিরও বেশি। এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৩ লাখ টাকা।
একই খামারে বড় হওয়া বাহাদুরের ওজন প্রায় ৯০০ কেজির বেশি, যা প্রায় ২৩ মণের সমান। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। এ ছাড়া, খামারে ছোট ও মাঝারি আকারের আরও কয়েকটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি নিজাম উদ্দিন ও তার পরিবার। ছেলে রাহাত হোসেন, স্ত্রী কামরুন নাহারসহ পরিবারের সদস্যরাই গরুগুলোর দেখভাল করছেন। খামারে কাজ করেন আবুল কালাম নামের এক কর্মচারীও।
খামারি ইউপি সদস্য মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, গত তিন বছর ধরে রাজাবাবু ও বাহাদুরকে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করছি। রাজাবাবুর ওজন ২৫ মণ আর বাহাদুরের প্রায় ২৩ মণ। রাজাবাবুর দাম ১৩ লাখ এবং বাহাদুরের দাম ১১ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছি। ২৪ লাখ টাকার কমে বিক্রি করলে আমাদের ক্ষতি হবে।
তিনি আরও বলেন, অসৎ কোনো উপায়ে গরু মোটাতাজা করিনি। প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করেছি। কম দামে বিক্রি করার চেয়ে খামারে রেখে আরও এক বছর পালন করবো।
খামারির ছেলে রাহাত হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই গরু দুটিকে পরিবারের সদস্যের মতো করে বড় করেছি। তাদের খাবার, পরিচর্যা সবকিছুতেই আমরা বিশেষ যত্ন নিয়েছি। এখন মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে দেখতে আসছে, ভালো লাগছে।
খামারির স্ত্রী কামরুন নাহার বলেন, রাজাবাবু একটু উত্তেজিত স্বভাবের, তবে বাহাদুর অনেক শান্ত। আমাকে দেখলেই দুটোই শান্ত হয়ে যায়। ওরা এখন আমাদের পরিবারেরই সদস্য।
গরু দেখতে আসা সম্ভাব্য ক্রেতা মো. সেলিম রেজা বলেন, নোয়াখালীতে এত বড় ও সুস্থ গরু খুব কমই দেখা যায়। রাজাবাবু ও বাহাদুর দুটিই দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এবং পরিচর্যাও ভালো হয়েছে। দাম কিছুটা বেশি হলেও যারা বড় ও ব্যতিক্রমী গরু কোরবানির জন্য কিনতে চান, তাদের কাছে গরু দুটি বেশ পছন্দের হবে। আমি নিজেও দামাদামি করছি, এখন দেখি শেষ পর্যন্ত ক্রয় করা যায় কি না।
সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাসলীমা ফেরদৌসী বলেন, নোয়াখালী জেলায় ১ হাজার কেজির বেশি ওজনের গরু বর্তমানে রাজাবাবু ছাড়া আর নেই। তাই এটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু। এ ছাড়া, বাহাদুরও প্রায় ৯০০ কেজির ওপরে। গরুগুলোর স্বাস্থ্য, ভ্যাকসিন ও সার্বিক বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। এ বছর গো খাদ্যের অতিরিক্ত দাম হওয়ায় গরুর পেছনে অনেক খরচ হচ্ছে। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ছোট-বড় সব খামারির পাশে রয়েছে। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে খামারিরা লাভবান হবেন বলে আমরা আশা করছি।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট


.webp)










