কারিনার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন কায়সার হামিদ
ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মরদেহ দেশে পৌঁছে গত রোববার বিকেলে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করেন তার বাবা জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
এরপর বাদ মাগরিব রাজধানীর বনানীর ডিওএইচএস মাঠে কারিনার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কায়সার হামিদ।
সামাজিক মাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের কাছে কারিনাকে জনপ্রিয় করে তোলে। মেয়ের জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে কায়সার হামিদ বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কারিনাকে যে এতো মানুষ ভালোবাসে এটা আমার জানা ছিল না। তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসা দেখে আমার গর্ব হচ্ছে।
এরপর মেয়ের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন কায়সার হামিদ। বলেন, কারিনা কোনো রাজনৈতিক দল সাপোর্ট করতো না বা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে কথা বলতো এবং ভিডিও বানাতো।
এর আগে রোববার রাতে ঢাকা শহীদ মিনারে তার তৃতীয় জানাজা শেষ হয়। এরপর সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জের আবদুল্লাহপুরে চতুর্থ জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
বেশ কিছুদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন কারিনা কায়সার। ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ (প্রেশার) অনেক নিচে নেমে যায়, এরপর আর চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি।
একই সঙ্গে হেপাটাইটিস এ এবং ই-জনিত জটিলতায় তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকেরা ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের (প্রতিস্থাপন) প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি একজন দক্ষ চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’। তার এই অকাল প্রয়াণে বিনোদন জগতের নির্মাতা, সহকর্মী ও সাধারণ অনুরাগীদের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট




.jpg)












