শনিবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ || ১৭ মাঘ ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৫:৫০, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাটের জামাইদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা

জয়পুরহাটের জামাইদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা
সংগৃহীত

নবান্ন উৎসবকে ঘিরে জয়পুরহাটের কালাই পৌর এলাকার পাঁচশিরা বাজারে বসেছে প্রায় শত বছরের জামাইদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। এতে বিভিন্ন জাতের বড় বড় মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। চলে হাঁক-ডাক, দরদাম, আর বড় বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। আকার অনুযায়ী প্রতি কেজি মাছ ২শ থেকে ১৫শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এবার মেলায় ৩২ কেজি পর্যন্ত মাছ উঠেছে। এ মেলাকে কেন্দ্র করে দুর দূরান্তের জামাইদের নিমন্ত্রণে পরিণত হয় মিলনমেলা ও উৎসব।  

জানা যায়, নবান্ন উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহে জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার পাঁচশিরা বাজারে এই মাছের মেলা বসে। প্রায় শত বছর থেকে এই মেলার আয়োজন করে আসছে স্থানীয়রা। মেলার দিন ভোর থেকে দিনব্যাপী চলে কাতলা, রুই, মৃগেল, চিতল, গ্রাসকার্প, কালবাউশ, ব্রিগেড, সিলভার কার্পসহ হরেক রকমের মাছ বিক্রি। বিক্রেতারা থরে থরে মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। জয়পুরহাটসহ আশেপাশের জেলা থেকেও লোকজন এখানে আসেন মাছ কিনতে। তবে মেলাটি জামাইদের মাছের মেলা নামে পরিচিত। সবাই সামর্থ্য অনুযায়ী মাছ কিনে খুশি মনে ফিরছেন বাড়ি। 
এদিকে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়-স্বজনদের আগে থেকেই দাওয়াত করা হয়। নবান্ন উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে নতুন চালের ক্ষীর, পিঠা, পুলি, পায়েস আর ফিরনি দিয়ে মেহমানদের আপ্যায়ন করতে ধুম পড়ে যায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে তারা নতুন ধানের চালে নবান্ন উৎসব করেন। এদিন জামাই মেয়েদের নিয়ে পরিণত হয় মিলন মেলায়।  

কালাই কলেজপাড়ার তানভিরুল ইসলাম রিগ্যান বলেন, প্রতিবছর এই মেলাতে এসে মাছ কিনি। এবার একটি ৯ কেজি ওজনের ব্রিগেড মাছ কিনেছি। ৫শ টাকা করে কেজি হিসেবে ৪৫০০ টাকা দাম পড়েছে। নবান্ন উৎসবের আনন্দ আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে মাছ কিনতে এসেছি।

বেগুন গ্রামের সানজিদা খাতুন বলেন, নবান্ন উৎসবকে ঘিরে এই মাছের মেলাতে প্রতিবছর আসি। সারাবছর এই দিনটির জন্য কালাই উপজেলাবাসী অপেক্ষা করে। সচরাচর এতো বড় মাছ কোথাও দেখতে পাওয়া যায়না। আমার বাবা ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসছি মাছ কেনার জন্য।

জয়পুরহাট শহরের গাড়িয়াকান্ত এলাকার ইকবাল হোসেন বলেন, এই মেলাটি দেখার অনেক শখ ছিল। এতোদিন শুনেছি অনেক বড় বড় মাছ পাওয়া যায়। আজ স্বচক্ষে দেখলাম। পছন্দ হলে একটা কিনবো। মেলাতে এসে খুব ভাল লাগছে।

নওগাঁ থেকে মেলায় মাছ কিনতে আসা মাহবুব হাসান নামে এক জামাই বলেন, অন্য বছরের চাইতে এবার মাছের দাম একটু বেশী মনে হচ্ছে। তবে বেশি হলেও একটি ১০ কেজি গ্রাসকার্প মাছ কিনে নিয়ে শশুর বাড়ি যাচ্ছি।

রাজশাহী থেকে আসা মাছ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলাতে প্রতিবছর আসি। এবার মাছ বিক্রি করতে এসেছি। আমার দোকানে সর্বোচ্চ ৩২ কেজি ওজনের গ্রাসকার্প মাছ আছে। এটি এই মেলার সবচেয়ে বড় মাছ। দাম চাচ্ছি ১২৫০ টাকা কেজি।

বায়োজিদ হোসেন নামে এক বিক্রেতা বলেন, মেলা উপলক্ষে আগের দিন জয়পুরহাট জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলার পুকুর, নদী ও বিল থেকে মাছ সংগ্রহ করা হয়। এরপর মেলায় আকারভেদে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ২শ থেকে ১৫শ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

কালাই উপজেলা মৎস্য অফিসার তৌহিদা মোহতামিম বলেন, এখানে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট বড় সব ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এই মেলায় কেউ যাতে নিষিদ্ধ কোন মাছ বিক্রি করতে না পারে সেজন্য তদারকি করা হচ্ছে।

সর্বশেষ

সর্বশেষ

শিরোনাম

১৫ বছর শুধু বগুড়া নয়, সারা দেশই বঞ্চিত ছিল: তারেক রহমান
গাইবান্ধায় আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ৩
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে ট্রাক, দুজনের মরদেহ উদ্ধার
বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান
তারেক রহমানের সম্পদ বলতে ব্যাংক জমা, শেয়ার ও এফডিআর
দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা, রাতে বাড়বে শীত
বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, মরদেহ উদ্ধার
দুই সম্পাদক-এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে
হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে : আইন উপদেষ্টা