এল ক্ল্যাসিকোর আগে চাপে বার্সেলোনা, ছন্দে ফিরছে রিয়াল
স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত লড়াই এল ক্ল্যাসিকো। মুখোমুখি হচ্ছে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের প্রথম বড় পরীক্ষার আগে দুই দলের পরিস্থিতিতে রয়েছে ভিন্নতা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে হেরে ধাক্কা খেয়েছে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। অন্যদিকে টানা চার জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে হোসে মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদ।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো পরাজয়ের স্বাদ পায় বার্সেলোনা। বিপরীতে বুধবার আরবি লাইপজিগকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয় তুলে নেয় রিয়াল। ফলে এল ক্ল্যাসিকোর আগে লড়াই জমে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
তবে পরিস্থিতি এখনো বার্সেলোনার অনুকূলে। তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে আছে কাতালান ক্লাবটি। চোট কাটিয়ে রাফিনিয়া ফিরেছেন, আর দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। ফলে ঘরের মাঠে জয় তুলে নিয়ে ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে ফ্লিকের দলের।
গত মৌসুমেও এল ক্ল্যাসিকোর ফল দুই দলের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। প্রথম দেখায় বার্সেলোনাকে হারিয়েছিল রিয়াল। কিন্তু বদলি হওয়ার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দলটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা সামনে নিয়ে আসে। এর কিছুদিন পরই কোচ জাবি আলোনসোকে দায়িত্ব ছাড়তে হয়। পরে আলভারো আরবেলোয়াও রিয়ালকে বড় কোনো শিরোপা জেতাতে পারেননি। অন্যদিকে সহজেই স্প্যানিশ লিগের শিরোপা ধরে রাখে বার্সেলোনা।
এবারের এল ক্ল্যাসিকোয় ভিনিসিয়ুসকে পাচ্ছে না রিয়াল। নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকতে হবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে। তবে তার অনুপস্থিতি রিয়ালের জন্য কৌশলগতভাবে ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করছে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস। তাদের মতে, ভিনিসিয়ুসের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে রিয়াল সমস্যার চেয়ে সমাধান হিসেবেই দেখছে।
দলের আক্রমণভাগের তারকাদের একসঙ্গে খেলানোর চেষ্টা করে আসছেন মরিনিও। কিন্তু এতে আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। ভিনিসিয়ুসের অনুপস্থিতিতে রক্ষণেও অবদান রাখতে সক্ষম তরুণ ইয়ান ডিওমান্দেকে খেলানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। রেকর্ড ১৪ কোটি ইউরোতে দলে আসা এই তরুণ ধীরে ধীরে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছেন।
বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবল থামাতে মাঝমাঠে বাড়তি খেলোয়াড় নামানোর কৌশলও নিতে পারেন মরিনিও। তবে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচ দেখিয়েছে, বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে গোলের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
এল ক্লাসিকোর গুরুত্ব তুলে ধরে মরিনিও বলেছেন, এ ধরনের ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের হিসাব চলে না। বুধবার তিনি বলেন, এটি অন্য ম্যাচগুলোর মতো নয়। পাশাপাশি বার্সেলোনার তুলনায় ২৪ ঘণ্টা কম বিশ্রাম পাওয়ার বিষয়টিও নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রিয়াল কোচ।
শুধু পিএসজির কাছে হার নয়, রক্ষণভাগের চোট সমস্যাও বার্সেলোনার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এরিক গার্সিয়া ও আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন চোটের কারণে খেলতে পারবেন না। জুলস কুন্দের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ছাড়া চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকবেন মিডফিল্ডার দানি ওলমো।
পিএসজির বিপক্ষে চার গোল হজম করে রক্ষণভাগের দুর্বলতাও নতুন করে সামনে এসেছে। ফ্লিকের অধীনে উঁচু ডিফেন্সিভ লাইন ধরে খেলার কৌশল বার্সেলোনার আক্রমণে সুবিধা দিলেও প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণে ঝুঁকি তৈরি করছে।
পিএসজির বিপক্ষে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ফ্লিক বলেন, বল দখলে রাখার সময় দল অনেক বেশি ভুল করেছে এবং সহজেই বল হারিয়েছে। খেলোয়াড়দের সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচির কারণে ক্লান্তিও এর একটি কারণ বলে মনে করেন তিনি।
তবে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গোল করার ধারাবাহিকতা। চলতি মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচেই অন্তত দুটি করে গোল করেছে দলটি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রতি ম্যাচে চারটির বেশি গোলের গড়ও রয়েছে তাদের।
রাফিনিয়া জানিয়েছেন, ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় তাদের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন তারা। লিগে ১২ গোল করে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিন গোল কম নিয়ে রিয়ালের কিলিয়ান এমবাপ্পে রয়েছেন তার পেছনে। ইয়ামালের গোলসংখ্যা আট।
এদিকে সোমবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় রয়েছেন এমবাপ্পে ও ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত পুরস্কারের চেয়েও আপাতত দুই দলের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এল ক্ল্যাসিকোর জয়। কারণ এই ম্যাচের ফল শুধু পয়েন্টের ব্যবধান নয়, মৌসুমের বাকি পথের আত্মবিশ্বাসও নির্ধারণ করে দিতে পারে।
সূত্র: কালবেলা

















