মঙ্গলবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ || ২০ মাঘ ১৪৩২

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১২:৪৪, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

কোনো অপরাধীকে দোষের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি দেওয়া উচিত নয়

কোনো অপরাধীকে দোষের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি দেওয়া উচিত নয়
সংগৃহীত

বিচারের প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের নামে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। আবার কোনো অপরাধীকেও তাঁর দোষের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৬ জানুয়ারি এ মামলার রায় দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার রায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ডিএমপির রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড, সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার আসামিদের মধ্যে চারজন পলাতক। তাঁরা হলেন হাবিবুর, সুদীপ, আখতারুল ও ইমরুল। কারাগারে আছেন আরশাদ, সুজন, ইমাজ ও নাসিরুল।

অন্যদিকে গতকাল রোববার আপিল বিভাগ এই মামলার রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের মুক্তি না দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক কনস্টেবল সুজনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর্যবেক্ষণ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৬ জানুয়ারি এ মামলার রায় দেন। রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ২৬ জানুয়ারি এ মামলার রায় দেন। রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়

ছবি: চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে

চানখাঁরপুল মামলার রায়ের সমাপনী মন্তব্যে বলা হয়েছে, নির্দোষ, নিরস্ত্র, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের হত্যা করা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অপ্রত্যাশিত। বিশেষ করে চানখাঁরপুল এলাকায় ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আন্দোলনকারী শাহরিয়ার খান আনাস তাঁর মায়ের উদ্দেশে যে চিঠিটি লিখেছিলেন, তা সবার হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। চিঠিটি ট্রাইব্যুনালে পাঠ করা হলে আদালতকক্ষে উপস্থিত প্রায় সবাইকে অশ্রুসিক্ত হতে দেখা যায়। এই বীর শহীদদের, তাঁদের গর্বিত পরিবারগুলোর ক্ষতি পূরণ করার মতো কিছুই পৃথিবীতে নেই। একই সঙ্গে এটিও স্বীকার করতে হবে যে বিচারের প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের নামে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। আবার কোনো অপরাধীকেও তাঁর দোষের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। ট্রাইব্যুনালের দৃঢ় বিশ্বাস, আসামিদের যে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা যথাযথ ও ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম হবে।

অমীমাংসিত প্রশ্ন

রায় ঘোষণার দিন আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়

রায় ঘোষণার দিন আসামিদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়

ফাইল ছবি

রায়ে ‘অমীমাংসিত প্রশ্ন’ নামে একটি অংশ রয়েছে। এখানে ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।

রায়ে বলা হয়, এই মামলায় কিছু গুরুতর অসংগতি পেয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী কনস্টেবল অজয় ঘোষ, আবদুর রহমান ও আসিফ খানের নামে অস্ত্র–গোলাবারুদ ইস্যু করা হয়েছিল। তাঁরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল অভিযানে অংশগ্রহণ নিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে দেখা যায়, অজয় তাঁর নামে ইস্যু করা ৪০টি গুলির মধ্যে ১৮টি ফেরত দেন। নথিতে থাকা এসব প্রমাণ উপেক্ষা করে কি ট্রাইব্যুনাল এই তিন কনস্টেবল সাক্ষীর মৌখিক বর্ণনাকেই বিশ্বাস করবেন?

রায়ে প্রশ্ন তোলা হয়, যদি ধরে নেওয়া হয়, সাক্ষী অজয় তৎকালীন এডিসি আখতারুলের আদেশ অমান্য করে গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানান। তাহলে অজয় কেন আখতারুল বা সুজনের কাছে তাঁর অস্ত্র–গোলাবারুদ হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানাননি?

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন, জব্দ তালিকা থেকে জানা যায়, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম সক্রিয়ভাবে চানখাঁরপুল অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জবানবন্দি দিয়ে চানখাঁরপুল অভিযানের বিবরণ দেন। তিনি নিজেকেও এই অভিযানে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেন। অথচ তাঁকে না আসামি করা হয়েছে, না সাক্ষী করা হয়েছে।

চানখাঁরপুল মামলার রায় নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

চানখাঁরপুল মামলার রায় নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন। ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

কোলাজ

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, আরও প্রতীয়মান হয়, অন্তত ৪০ জন পুলিশসদস্য চানখাঁরপুল অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৮ জনকে চায়না রাইফেল, ১৫ জনকে শর্টগান ও ২ জনকে এসএমজি ইস্যু করা হয়েছিল। বিপুল পরিমাণ গুলিও ইস্যু করা হয়েছিল। রেজিস্টারে দেখা যায়, মাত্র চার থেকে পাঁচজন তাঁদের নামে ইস্যু করা অস্ত্র–গোলাবারুদ ফেরত দেন। অন্যদের অস্ত্র–গোলাবারুদের কোনো হিসাব পাওয়া যায় না।

যদি ট্রাইব্যুনাল তিন কনস্টেবল আসামির কার্যকলাপ দেখানো ভিডিওগুলোর ওপর নির্ভর করেন, তাহলে সেখানে উপস্থিত বাহিনীর অন্য সদস্যদের কার্যকলাপের ভিডিও কোথায়, সেই প্রশ্ন রায়ে রাখা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, চানখাঁরপুল এলাকা রমনা অঞ্চলের আওতাভুক্ত। কিন্তু মামলায় রমনা অঞ্চলের উপকমিশনারের (ডিসির) অবস্থান সম্পর্কে কোনো উল্লেখ নেই। প্রাসঙ্গিক সময়ে তিনি (রমনার ডিসি) কী করছিলেন, কোথায় ছিলেন?

রায়ে বলা হয়, প্রাণঘাতী অস্ত্র–গুলিসহ মোতায়েন থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য সদস্যদের কেন মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তা বোধগম্য নয়। ঘটনার সময় কে অস্ত্র ব্যবহার করেছেন বা কে করেননি—এ বিষয়ে বিচার ছাড়াই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনুচিত।

আসামি সাবেক এডিসি আখতারুল সরকার পতনের পরও দীর্ঘসময় দায়িত্বে ছিলেন উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, তবু তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান। আখতারুলকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল।

রায়ে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও এটি স্পষ্ট যে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যার জন্য এককভাবে দায়ী তিন আসামি—হাবিবুর, সুদীপ ও আখতারুল। অন্য আসামিরাও তাঁদের সংশ্লিষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী দায়ী। তবে তাঁদের সবাইকে হত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা যায় না।

সুজনের বিষয়ে রায়ে যে পর্যবেক্ষণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

ফাইল ছবি: প্রথম আলো

তিন বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক কনস্টেবল সুজনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে, প্রসিকিউশনের (রাষ্ট্রপক্ষ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে সুজনের বিষয়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালবেলায় ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ ও এডিসি আখতারুল প্রথমে শাহবাগ থানায়, পরে চানখাঁরপুল এলাকায় পুলিশকে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন কনস্টেবল সুজন, ইমাজ, নাসিরুলসহ অন্যান্য পুলিশসদস্যরা রমনা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার ইমরুলের উপস্থিতিতে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। এর ফলে ছয়জন নিহত হন।

রায়ে বলা হয়েছে, জবানবন্দি থেকে জানা যায়, সুজনসহ অধস্তন পুলিশসদস্যদের প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে বাধ্য করেন তৎকালীন এডিসি আখতারুল। সুজনকে শাহবাগ থানা থেকে একটি ঢাল ও একটি লাঠি ইস্যু করা হয়েছিল। অথচ অনেককে প্রাণঘাতী অস্ত্র ও বিপুলসংখ্যক গুলি ইস্যু করা হয়েছিল। আরও প্রতীয়মান হয়, আসামি সুজনের বয়স তখন মাত্র ২০ বছর ছিল। ফলে তিনি পুলিশ বাহিনীতে একজন নতুন সদস্য ছিলেন। সম্ভবত বয়স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সুজনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র ও গুলি ইস্যু করা হয়নি।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী কনস্টেবল অজয় ঘোষ, আবদুর রহমান ও আসিফ খানের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, অজয়ের কাছ থেকে একটি চায়না রাইফেল ও গুলি নিয়ে জোর করে সুজনকে দেন আখতারুল। এরপর সুজন আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। তবে অজয় ও আসিফের সাক্ষ্য সম্পূর্ণরূপে সত্য হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। কারণ, তাঁরাও চানখাঁরপুল অভিযানে অস্ত্র–গুলিসহ অংশগ্রহণ করেছিলেন।

রায়ে বলা হয়েছে, স্বাভাবিকভাবেই সাক্ষী কনস্টেবল অজয়, আবদুর রহমান ও আসিফের এই মামলার আসামি হওয়ার কথা ছিল। সুতরাং, নিজেদের সম্পৃক্ততা এড়াতে তাঁরা সুজনকে জড়িত করেছেন, এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছেন, চানখাঁরপুল হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে আসামি সুজনকে প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। তবে সেখানে তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট আন্দোলনকারীকে লক্ষ্য করে গুলি করতে দেখা যায় না। কিংবা তাঁর গুলিতে ঠিক কোন আন্দোলনকারী আহত বা নিহত হয়েছেন, তা বোঝা যায় না। আসলে কার গুলিতে কে আহত বা নিহত হয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করাও আবশ্যক নয়। বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, গুলিবর্ষণ ছিল বৃষ্টির মতো। অর্থাৎ, অনেকের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি স্পষ্ট যে আসামি সুজন পরিস্থিতির শিকার ছিলেন। যদি তৎকালীন এডিসি আখতারুল তাঁকে অস্ত্র না দিতেন, তাহলে তিনি গুলি করতে পারতেন না। আর সেই কারণে তাঁকে আসামি করাও সম্ভব হতো না।

সুজন কেন গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানাননি, তার একাধিক ব্যাখ্যা হতে পারে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে বলা হয়, প্রথমত, মাত্র কয়েক মাসের চাকরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কনস্টেবলের যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতিতে একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডিং কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করার সাহস প্রত্যাশা করা যায় না। দ্বিতীয়ত, যাঁরা আদেশ অমান্যের দাবি করেছেন, তা আদৌ সত্য নাও হতে পারে। তৃতীয়ত, এমন পরিস্থিতিতে আদেশ অমান্যকারী কনস্টেবলের জীবন বিপন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তেমন কিছু ঘটেনি, সম্ভবত উচ্চপদস্থদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ থাকার কারণে। এসব সত্ত্বেও সুজন চানখাঁরপুলের নৃশংসতায় কমবেশি সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া যায় না।

অন্য আসামিদের বিষয়ে যা বলা হয়েছে

হাবিবুরের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, তিনি ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে ঢাকা মহানগর পুলিশের সব ইউনিটকে আন্দোলনকারীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেন।

আখতারুলের বিষয়ে রায়ে বলা হয়, তিনি চানখাঁরপুলের পুরো অভিযান তদারকি করেন। তাঁর আদেশ ও তত্ত্বাবধানে অধস্তন পুলিশ সদস্যরা প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। এর ফলে ছয়জন আন্দোলনকারী নিহত হন।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, আসামি ইমরুল ও আরশাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে চানখাঁরপুল এলাকার অভিযান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তাঁরাও হাবিবুর, সুদীপ ও আখতারুলের আদেশাধীন ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ছাড়া তাঁদের আর কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা পাওয়া যায় না।

ইমাজের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, কিছু সাক্ষী বলেছেন, তিনি (ইমাজ) আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালান। নথিপত্রে দেখা যায়, তিনি সব গুলি জমা দেননি। ফলে বোঝা যায়, তিনিও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন, সম্ভবত সুজনের মতোই বাধ্য হয়ে।

আরেক আসামি নাসিরুলের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, একটি চায়না রাইফেল ও ৪০টি গুলি ইস্যু করা হয়েছিল তাঁর নামে। তিনি রাইফেল ও গুলি ফেরত দিয়েছেন। নথি বিবেচনায় তাঁকে সরাসরি হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা যায় না। তবে কিছু সাক্ষী বলেছেন, তাঁকে গুলি চালানোর জন্য রাইফেল লোড করতে দেখা গেছে। ভিডিও ফুটেজেও তাঁকে রাইফেল লোড করতে ও গুলি চালাতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় ধরে নেওয়া যায়, নাসিরুল বাধ্য হয়ে কাজটি করেছেন। তাঁর সম্পৃক্ততা কমবেশি স্পষ্ট। সুতরাং তিনি শাস্তি এড়াতে পারেন না।

সূত্র: প্রথম আলো

সর্বশেষ

শিরোনাম

১৫ বছর শুধু বগুড়া নয়, সারা দেশই বঞ্চিত ছিল: তারেক রহমান
গাইবান্ধায় আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, আহত ৩
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন শুরু আজ, উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
সেতুর রেলিং ভেঙে নদীতে ট্রাক, দুজনের মরদেহ উদ্ধার
বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণকারীদের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান
তারেক রহমানের সম্পদ বলতে ব্যাংক জমা, শেয়ার ও এফডিআর
দেশের উত্তরাঞ্চল ও নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশার সম্ভাবনা, রাতে বাড়বে শীত
বগুড়ায় ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর হত্যা, মরদেহ উদ্ধার
দুই সম্পাদক-এনসিপির ৬ নেতাসহ ২০ জনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে
হাদি হত্যার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে : আইন উপদেষ্টা