শহরের ছাদে রঙিন ফুলের ঠিকানা
মণিপুরি সম্প্রদায়ের নারী আওয়াংলৈ সিনহা। তাঁর নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ফুলের সম্পর্ক। মণিপুরি ভাষায় ‘লৈ’ শব্দের অর্থ ফুল, আর ‘আওয়াং’ অর্থ উত্তর। তাঁর নামের অর্থ দাঁড়ায় উত্তরের ফুল। নামের সঙ্গে জীবনের এই অদ্ভুত মিল যেন তাঁর ছাদবাগানেই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সিলেট নগরের লালাদীঘির পাড় এলাকার দোতলা বাড়ির ছাদে উঠলে দেখা মেলে সুন্দর এক বাগানের। কংক্রিটের শহরের মাঝখানে সবুজের এমন সমারোহ সহজে চোখে পড়ে না। রঙিন ফুল, ফল আর সবজি গাছের ফাঁকে ফাঁকে ছড়িয়ে আছে যত্ন আর ভালোবাসার ছাপ। এই ছাদবাগান আওয়াংলৈ সিনহার।
গাছের প্রতি ভালোবাসা আর শখ থেকেই নিজের বাসভবনের ছাদে বাগান গড়ে তুলেছেন আওয়াংলৈ। শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে কয়েকটি টব, দু-একটি ফুলগাছ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শখই আজ পরিণত হয়েছে বিস্তৃত এক ছাদবাগানে।
বাগানজুড়ে এখন আছে দেড় শতাধিক নানা জাতের ফুল, ফল ও সবজির গাছ। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ অর্ধশতাধিক প্রজাতির গোলাপ ফুল। রঙে-রূপে ভিন্ন ভিন্ন এসব গোলাপ যেন ছাদের প্রতিটি কোণ আলোকিত করে রেখেছে।

এই বাগানের বিশেষ আকর্ষণ অর্ধশতাধিক প্রজাতির গোলাপ ফুল
ছবি: প্রথম আলো
আওয়াংলৈ বলেন, ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল ফুলের বাগান করার। এখন বাসার ছাদজুড়ে আমার এই স্বপ্নের ছাদবাগান। দিনের বেশির ভাগ সময় গাছের সঙ্গে কাটে তাঁর। বলেন, দিনের ব্যস্ততা, ক্লান্তি—সবকিছু যেন এই ছাদে এসে হালকা হয়ে যায়। সকালে বা বিকেলে একটু সময় পেলেই তিনি গাছের যত্ন নেন। কোন গাছে নতুন কুঁড়ি এল, কোথায় পানি দরকার—কিছুই তাঁর চোখ এড়ায় না। রাসায়নিক সার বা অতিরিক্ত উপকরণের বদলে তিনি চেষ্টা করেন প্রাকৃতিক উপায়ে গাছ বড় করতে। এ কাজে তাঁকে পরিবারের সবাই সহযোগিতা করেন।
স্থানীয় অনেকেই আওয়াংলৈর ছাদবাগান দেখতে আসেন। কেউ আসেন শখের বশে, কেউবা ছাদবাগান করার পরামর্শ নিতে। নতুন কেউ এলে তিনি হাসিমুখে গাছ দেখান, অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তিনি বাগানের ফুল বিক্রি করেন না। বাণিজ্যিক কোনো কিছুতে ব্যবহার করেন না। তবে মাঝেমধ্যে অনেককে উপহার হিসেবে বাগানের ফুল দেন।

আওয়াংলৈ সিনহার বাগানজুড়ে এখন আছে দেড় শতাধিক নানা জাতের ফুল, ফল ও সবজির গাছ
ছবি: প্রথম আলো
শহরের জীবনে যেখানে খোলা জায়গা দিন দিন কমে যাচ্ছে, সেখানে আওয়াংলৈ সিনহার ছাদবাগান যেন শান্তির জায়গা। অল্প জায়গাতেও যত্ন ও ভালোবাসা থাকলে সবুজের ঠিকানা তৈরি করা যায়। নামের মতোই ফুলে ভরা এই নারীর জীবন আর ছাদবাগান শহরের মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এখনো চাইলে গড়ে তোলা সম্ভব।
সূত্র: প্রথম আলো










