রংপুরে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য গোপন
রংপুরে জাতীয় শ্রমিক লীগ ও তাঁতী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাকে অস্ত্র, ২৪ রাউন্ড গুলি ও ছয় বোতল বিয়ারসহ গ্রেপ্তার করার ঘটনায় পুলিশ সুপার এবং মিডিয়া সেলের তথ্যে গরমিল দেখা গেছে। পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে ২৪ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানালেও মিডিয়া সেলের বিজ্ঞপ্তিতে শুধু ৬ বোতল বিয়ারের কথা বলা হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন, বুধবার (৬ মে) রাতে রংপুর সদর উপজেলার হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়া এলাকার পাকারাস্তা সংলগ্ন শাহী জর্দা ফ্যাক্টরীর ভেতর থেকে ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগ নেতা শামীম আহমেদ ওরফে জর্দা শামীম (৫৫) ও তার ভাই আরিফ হোসেনকে (৪৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে একটি অস্ত্র ও ২৪ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। এছাড়াও ৬ বোতল মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। আমরা তাদের মাদকদ্রব্য সেবনরত অবস্থা গ্রেপ্তার করি।
পুলিশ সুপার আরও বলেছেন, ওই অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স ছিল। নির্বাচনের আগে জমা দিয়েছিলেন, পরে আবার উত্তোলন করেছেন। গ্রেপ্তার শামীমের বাড়ি ঝালকাঠি সদর থানায়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তার যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেটি আমরা অধিকতর তদন্ত করছি। তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি সদর, বাগেরহাট, মোল্লারহাট ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে।
এদিকে ঝালকাঠির আলোচিত ব্যবসায়ী শামীম আহমেদ ওরফে জর্দা শামীম ও তার সঙ্গে থাকা অপর আসামি আরিফ হোসেনকে গ্রেপ্তারের ব্যাপারে জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অস্ত্র এবং ২৪ রাউন্ড গুলির কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে মাদকদ্রব্য এবং মামলার তথ্য দেওয়া আছে। এ নিয়ে জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন।
এ বিষয়ে রংপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, যেহেতু তিনি অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্স দেখিয়েছেন সে কারণে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সদর কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করে অস্ত্র এবং গুলিগুলো জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। এছাড়াও শামীম ও তার ভাইয়ের নামে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা যাছাই বাছাই করে তদন্তে কাজে লাগানো হবে।
গ্রেপ্তারকৃত শামীম আহমেদ (৫৫) ও আরিফ হোসেন (৪৫) ঝালকাঠি পৌর শহরের পূর্বকাঠপট্টি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মিয়ার ছেলে। তারা ঝালকাঠি জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হলেও রাজনীতি ও ব্যবসায়িক কারণে ঢাকার উত্তরা এবং কলাবাগানে বসবাস করতেন।
শামীম আহমেদ উত্তর ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি। ২০২৩ সালে তিনি ঝালকাঠি জেলার সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা হয়েছিলেন। নিজেকে গরিবের সুলতান দাবি করা শামীম আহমেদ সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। সেই সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করেও আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা, অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

.webp)










.webp)
