মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ || ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

জাগ্রত জয়পুরহাট

প্রকাশিত : ১৪:১৫, ১২ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে হেফাজতের বিক্ষোভ
সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, সাম্প্রদায়িক হামলা ও ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা শাখা। এতে সংগঠনটির নেতারা এসব ঘটনাকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (১১ মে) হাটহাজারীতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলমানদের লক্ষ্য করে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব ঘটনায় উগ্রপন্থি বিজেপি সমর্থকদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা কোনো সভ্য, গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিয়েছে।

বাবুনগরী বলেন, নির্বাচনে জয়ের পর ওই নেতা দাবি করেছেন, মুসলমানরা তাকে ভোট দেয়নি। এ ধরনের বক্তব্য হামলাকারীদের পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে। একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে চলতে থাকলে ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেফাজত আমির বলেন, ভারতের মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতনের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিন্দা জানিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছে সংখ্যালঘু মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে আগামী শুক্রবার চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার ও মাওলানা কামরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে মুফতি মোহাম্মদ আলী কাসেমী বলেন, প্রতিবেশী দেশে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে নীরব থাকা উচিত নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মীর মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ভারতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু মুসলিমকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জোর করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর ষড়যন্ত্র চলছে। আরেকটি রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টির আগেই বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা মো. ঈসা, মাওলানা জয়নাল আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক মাওলানা হাফেজ আব্দুল মাবুদ, মাওলানা জমির উদ্দিন, মোরশেদ আলম, মাওলানা হাফেজ মহিউদ্দিন, আবু তাহের রাজিব, রাশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আসাদুল্লাহ, মাওলানা হাফেজ আমিনুল ইসলাম ও মাওলানা ওবাইদুর রহমানসহ অন্যরা।

অনলাইন জরিপ

মঙ্গলবার   ১২ মে ২০২৬ || ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১৭৩জন