বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অনির্দিষ্টকালের ছুটি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) এক বছরের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দুই দিন আগে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এতে থমকে গেছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানটি অনির্দিষ্টকালের ছুটি ঘোষণা করেছে।
আর্থিক জটিলতার জেরে বিদ্যুৎ বকেয়ার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুরো একাডেমিক পরিবেশে। দ্রুত সমাধান না হলে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঢেকে যেতে পারে। যেমন অন্ধকারে ডুবে আছে বিদ্যুৎহীন আইএইচটির
হোস্টেলগুলো–ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, রোববার সকাল ১০টার পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই আইএইচটির দুটি হোস্টেল প্রায় খালি। ছাত্রছাত্রীরা দুপুর থেকেই হোস্টেল ছাড়তে শুরু করেন।
মেয়েদের হোস্টেলে তালা ঝুলছে, ছেলেরাও বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার একই চিত্র দেখা গেছে। গতকাল প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে শিক্ষক ও কয়েকজন স্টাফকে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের আনাগোনা ছিল না বললেই চলে।
২০২২ সালে গোপীনাথপুর ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। আইএইচটিতে ল্যাব ও ফার্মেসি– দুটি টেকনোলজিতে ৪৫০ শিক্ষার্থী পড়ছেন। এর মধ্যে ৩৫০ শিক্ষার্থী হোস্টেলে থাকেন। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানটি
অর্থনৈতিক কোড পায়নি। এ কারণে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ব্যয়ভার মেটানো হয়।
এক বছর ধরে সেই বরাদ্দও বন্ধ। ফলে ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৬৮৩ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে।
বারবার তাগাদা দিয়েও বিল না পাওয়ায় রোববার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এরপর থেকে অন্ধকারে আইএইচটি। সোলার সিস্টেম থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরেই অচল। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা টাকা দিয়ে পড়ছি, তারপরও এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হবে ভাবিনি। দ্রুত সমাধান চাই।’
শিক্ষার্থী আরিফা জানান, সামনে পরীক্ষা, পড়াশোনা বন্ধ। অন্ধকারে হোস্টেলে থাকা অসম্ভব। সবাই বাসায় চলে গেছে।
চতুর্থ বর্ষের এনামুল হক বলেন, ‘রাতে বিদ্যুৎ ছিল না। চোরও ঢুকেছে। আমরা ভয়ে ছিলাম।’
অধ্যক্ষ ডা. আব্দুল কুদ্দুস মণ্ডল বলেন, ‘অর্থনৈতিক কোড নেই, আর এক বছর ধরে ব্যয় বরাদ্দও বন্ধ। তাই বিল পরিশোধ সম্ভব হয়নি। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি। সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।’
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আবদুর রহমান বলেন, প্রায় ১৭ লাখ টাকা বিল বকেয়া। বারবার তাগাদা দিয়েও পরিশোধ হয়নি, তাই সংযোগ কেটে দিতে হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (আর্থিক ব্যবস্থাপনা) ডা. জাহাঙ্গীর রশীদ জানান, অর্থনৈতিক কোড না থাকায় শুধু এই আইএইচটি নয়, দেশের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একই সমস্যা চলছে। অর্থ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে; ফাইলটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে। অর্থনৈতিক কোড ছাড়া কীভাবে বরাদ্দ ছাড়া হবে, মন্ত্রণালয় তা
বিবেচনা করছে।

















